টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়তে থাকার প্রভাব পড়ছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। বিশেষ করে আমদানি করা পণ্য ডাল, রসুন ও আটাসহ প্যাকেটজাত দুধ, সাবান ও ডিটার্জেন্ট পাউডারের দাম বেড়েছে আরেক দফা।
মৌসুম শেষের দিকে থাকায় বেড়েছে আলু, টমেটো ও শশার দাম। কিছুটা স্থির আছে মাছ ও মাংসের দাম। তবে সব মিলিয়ে কোনোভাবেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। শুধু খাদ্যপণ্য নয়, মানুষের প্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসের দাম বাড়তি।
গেল দুই মাস ধরে ওঠা নামা করছে ডলারের দাম। অস্থিতিশীল ডলারের মূল্যের প্রভাব পড়ছে রাজধানীর বাজারগুলোতে। বিশেষ করে আমদানি নির্ভর পণ্যের ওপর প্রভাব স্পষ্ট।
বাজারে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে মসুরের ডালের দাম। আগেই বাড়তি থাকা আটায় নতুন করে ৫টাকা বেড়েছে। আর প্যাকেট জাত পণ্যের দাম বেড়েছে আরো বেশি।
গুড়ো দুধের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ৪৫ টাকার লাক্স সাবান মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। বেড়েছে ডিটার্জেন্ট পাউডার ও পেস্টসহ প্যাকেটজাত বিভিন্ন পণ্যও।

তবে আমদানি করা পেয়াজ ও আদার দাম এখনো অপরিবর্তিত আছে। আগের বাড়তি দাম থেকে কিছুটা কমেছে চায়না রসুনের দামও। যদিও মৌসুম না থাকায় বেড়েছে আলুর দাম।
পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। বাজারে চায়না রসুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
গত সপ্তাহে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে আলু। এখন তা ২৫ থেকে ৩০ টাকা। মৌসুম না থাকার প্রভাবে ২০ টাকা বেড়েছে টমেটোর দামও। বাড়তি শশাসহ আরো কিছু সবজির দাম। তবে গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে পাঁচ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে, বর্ষায় চাহিদা বেড়েছে ছোট মাছের দামও খানিকটা বেশি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাষের মাছ। ইলিশ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সপ্তাহ ব্যবধানে দামও বেশ বেড়েছে। অন্যদিকে, বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে গরু মুরগি কিংবা খাসির মাংস।
গরুর মাংসের কেজি ৭০০ টাকা। খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা। বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩১০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়।

বাজারে মিল্ক ভিটার প্রতি লিটারে প্যাকেট দুধের দাম বেড়েছে। ৭ টাকা দাম বাড়িয়ে লিটার বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এছাড়া আধা লিটার দুধের প্যাকেট এর দাম বেড়েছে ৫ টাকা। আধা লিটার মিল্ক ভিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।
আরও পড়ুন: অভিযানের খবর পেয়ে আড়ত থেকে উধাও চাল ব্যবসায়ীরা
পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে গত এপ্রিলে গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ম্ফীতি হয়েছে। সাধারণ মূল্যস্ম্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ম্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। ধারণা করা হচ্ছে, মে মাসে মূল্যস্ম্ফীতি আরও বেড়েছে। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে মূল্যস্ম্ফীতির হার আরও বেশি বলে বলছেন অর্থনীতিবিদরা।
একাত্তর/এসি
