রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা নিয়ে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অভিযান কার্যত ভেস্তে গেছে। কিছুতেই ফুটপাতের দখল ছাড়তে চান না হকাররা। এনিয়ে মঙ্গলবার সেখানে রীতিমতো ইঁদুর-বিড়াল খেলা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনেই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি দেন তারা। এদিকে, অভিযানের খবরে গুলিস্তানের ফুটপাথ ফাঁকা হলেও, নির্বাহী হাকিম চলে যেতে না যেতেই আবারও দখল হয়ে যায়।
সকাল সাড়ে দশটা। অন্যদিনেই মতোই জমজমাট বায়তুল মোকাররম এলাকার ফুটপাত। নগরবাসীর হাঁটার পথে নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। কে বলবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক দিন আগেই এই ফুটপাথ দখলমুক্ত করা হয়েছিলো।
এগারোটা বাজতেই আসে উচ্ছেদের খবর। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আসছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। চারদিকে শুরু হয় হকারদের ছোটাছুটি। তড়িঘড়ি ফুটপাথ থেকে মালামাল সরিয়ে নেন সবাই। মুহূর্তেই ফাঁকা একটু আগের জমজমাট সেই ফুটপাথ।
কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত আর আসে না। সময় তখন সাড়ে এগারোটা। আবারও ফিরে আসতে শুরু করেন হকাররা। শুরু করেন বেচাকেনা। আবারো পুরনো চেহারায় ফিরে যায় রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকাটি। অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন অভিযান আর হবে না।
ঠিক এম সময় বেলা সাড়ে বারোটায় বুলডোজার আর ডাম্পিং ট্রাকের বড় একটি বহর নিয়ে হাজির নির্বাহী হাকিম। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যেই চলছিলো উচ্ছেদের প্রস্তুতি। আর সংঘবদ্ধ হকাররা শুরু করেন প্রতিবাদ। বিকল্প জায়গা ছাড়া তারা কিছুতেই ফুটপাত ছাড়বেন না।
উচ্ছেদের প্রতিবাদে হকারদের একটা দল নির্বাহী হাকিমের উপস্থিতিতেই রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে এবং এক পর্যায় তারা রাস্তায় বসে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় আশেপাশের সড়কে ব্যাপক যানজট শুরু হলে পুলিশ দুপুর ১টার দিকে তাদের সরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: চাল বাজারের সিন্ডেকট ভাঙতে খাদ্যমন্ত্রীর জেহাদ ঘোষণা
তবে, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল হাশিম কবির বলেন, উচ্ছেদ হলেই তারা রাজপথে নামবেন। উচ্ছেদ হওয়া হকাররা তাদের জীবিকার জন্য বিকল্প জায়গা চাচ্ছেন। যদিও উচ্ছেদের আগে দক্ষিণ সিটি জানিয়েছিল তাদের জন্য বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা হবে।
শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদের তোড়জোড়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো দক্ষিণ সিটির অভিযান। বৃষ্টি থামার পর দক্ষিণ সিটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যখন গুলিস্তানের অন্য-প্রান্তে; হকাররা তখন বায়তুল মোকাররম এলাকায় ফের দোকান সাজাতে ব্যস্ত।
একাত্তর/আরএ
