পরিচালক পদে নিয়োগ বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সহিদ উদ্দিন ও কো-অর্ডিনেশন অফিসার শেখ এনায়েত আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৯ অক্টোবর) সংস্থাটির অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্ব একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাবার সময় সহিদ উদ্দিন দাবি করেন, ঢাকা ওয়াসার প্রকল্পে দুর্নীতির কোন সুযোগই নেই।
ঢাকা ওয়াসার জনবল কাঠামোতে বোর্ডের প্রধান হলেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। এরপরই আছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তারপর ডিএমডি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ওয়াসার এই কাঠামোর কোথাও পরিচালকের কোনো পদ নেই।
কিন্তু ঢাকা ওয়াসায় আছেন তিনজন পরিচালক। যাদের মাসিক বেতন দেড় লাখ টাকা করে। সঙ্গে আছে অন্য সুযোগ সুবিধা। পরিচালক পদে প্রকৌশলী আবুল কাশেম ও প্রকৌশলী সহিদ উদ্দিন নিয়োগ পান ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনবল কাঠামো অনুযায়ী তাদের পরিচালক পদের অনুমোদন না থাকার পরও তারা ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করাসহ গুরুত্বপূর্ণ নানা কাজে ওয়াসার প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন। তাদের এই নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
বুধবার দুদকে ডাকে হাজির হন পরিচালক সহিদ উদ্দিন। সকাল সাড়ে ৯টায় দুদকে আসেন তিনি। টানা ৩ ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি দাবি করেন, তিনিসহ তিন পরিচালকের নিয়োগ নিয়ম মেনেই হয়েছে। সেসাথে ওয়াসায় দুর্নীতির কোন সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
সহিদ উদ্দিন বলেন, আমি কোনো দুর্নীতি দেখি না, আসলে কোনো দুর্নীতির সুযোগ নেই। প্রতিটি প্রকল্পে কনসাল্টেন্ট থাকে। তারাই দেখাশুনা করেন। তাদের দায়িত্ব প্রকল্পের কাজ শেষ করা। তারা ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে। তাদের সুপারিশেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে এক টাকাও দেওয়া হয়নি।
ওয়াসার এই কর্মকর্তার ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে যা যা জানতে চাওয়া হয়েছে, দুদক কর্মকর্তাদের তার সবই বলেছেন। দুদক কমিশনার মোজাম্মেল হক খান বলছেন, সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।
নিয়োগ দুর্নীতি ও প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগে বৃহস্পতিবার ওয়াসার আরো চার কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন।
একাত্তর/এআর
