রাজনৈতিক মদদে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে রাজধানীর কিশোর গ্যাং। বড় ভাইদের ছত্রছায়ায় তাদের অপরাধের পরিসর ছড়িয়ে পড়ছে অপরাধের অন্ডারওয়ার্ল্ডে।
রাজনৈতিক বড় ভাইদের আশ্রয়ে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, কিলিং মিশিনেও অংশ নিচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। সব ধরনের পশ্রয় পাওয়াতে এখন আরও বেপরোয়া তারা।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এদের বেপরোয়া চলাফেরা ও আচরণ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দিনের পর দিন কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে। গ্যাং সদস্যদের আচরণ এতটাই বেপরোয়া যে তাদের কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না।
কথিত বড় ভাইদের কারণে অপরাধ করেও তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেও দৌরাত্ম্য কমছে না।
প্রতিটি কিশোর গ্যাংয়ে সদস্য সংখ্যা থাকে ১৫ থেকে ২০ জন। ফেসবুক হোয়াটসঅ্যাপ আর টিকটকের মতো প্রযুক্তি তাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম।
এসব মাধ্যমে তারা গড়ে তোলে নিজেদের ক্লোজ গ্রুপ। এসব গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের জানান দেয় এই কিশোররা।
ডিএমপির অপরাধ পর্যালোচনার তথ্য বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ৪০টিরও বেশি কিশোর গ্যাং। এর মধ্যে মীরপুরে ডিটিসিবি স্ট্রিট গ্রুপের মতো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এমন ১১টি গ্রুপ।
কিন্তু কি তাদের উদ্দেশ্য, কেনোই বা জীবনের সূচনা লগ্নেই তারা জড়িয়ে পড়ছে ভয়ঙ্কর অপরাধ জগতের সাথে, কারা তাদের মদতদাতা- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে একাত্তর টেলিভিশন।
একেকটা গ্রুপ কাজ করে কয়েক ধাপে। আছে লিয়াজো গ্রুপও। যাদের কাজ নিজেদের এলাকার রাজনৈতিক বড় ভাইদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।
তারা প্রকাশ্যে কোনো অপরাধে জড়ায় না। কিন্তু পেছন থেকে মদত দেয়। বা নিজেদের স্বার্থে এই কিশোরদের ব্যবহার করে। প্রতিটি গ্রুপের আবার উপ-গ্রুপও আছে।
তারাই মাঠ পর্যায়ে প্রধান গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করে। তাদের অধীনে থাকা সদস্যরাই লিপ্ত হয় দাঙ্গা হাঙ্গামায়। আর এসবের জন্য তারা নিয়মিত নিজেদের মধ্যে মহড়াও করে থাকে।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতিতে ব্যবহৃত হয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। অস্ত্র মাদক বা টাকাও আসে সেভাবেই। চাঁদাবাজিও তাদের আয়ের অন্যতম উৎস।
অন্তরালে থাকা বড় ভাইদের আশীর্বাদের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও এদের ব্যাপারে নীরব। কালে ভদ্র চলে লোক দেখানো অভিযান।
রাজধানীর মীরপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের এমন অনেক সদস্য আছে যাদের আয় একজন সরকারি কর্মকর্তার চেয়েও বেশি।
সরকারের একটি সংস্থার গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, মীরপুরের সক্রিয় কিশোর গ্যাংগুলোর মদদ দাতা হিসেবে আছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের তিনজন কাউন্সিলর ও একজন সংসদ সদস্য।
মূলত তাদের মদতেই বেপরোয়া এই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তাদের উৎপাতে অতিষ্ঠ মানুষরা বলছে, রাজনৈতিক মদতের কারণেই সুপথে আনা যাচ্ছে না কিশোরদের।
যদি কারও মদদ না থাকতো, তাহলে তাদের সুপথে আনাটা কঠিন হতো না। আইনে কিশোর হবার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এদের তৎপরতার কাছে অসহায়।
আরও পড়ুন: অক্টোবরের শেষেও ডেঙ্গু ভয়ঙ্কর, জ্বর হলেই পরীক্ষার পরামর্শ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যারা অপরাধে জড়াচ্ছে তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
এরা যত বড় অপরাধই করুক না কেন তাদেরকে শিশু আইনে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। ওই আইনে হত্যাকাণ্ডের মত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি দশ বছর।
তবে নতুন আইজিপি জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী পাড়া-মহল্লাসহ যেখানে তারা থাকবে সেখানেই অভিযান চালানো হবে।
একাত্তর/এসি
