তরকারি বিক্রেতা থেকে মিজান জড়িয়ে পড়েন অজ্ঞান পার্টির চক্রের সাথে। এরপর তিনি নিজেই গড়ে তোলেন অজ্ঞান পার্টির প্রায় দেড়শ' জনের একটি চক্র। হয়ে যার এই চক্রের নেতা।
মিজানসহ ওই চক্রের পাঁচ সদস্যকে হাতেনাতে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর কিভাবে মানুষকে অজ্ঞান করা হয়, পুলিশকে তা জানিয়েছেন এই দলনেতা।
তৈরি হচ্ছে মানুষকে অজ্ঞান করার টোটকা। দুই থেকে তিন রকমের বিভিন্ন ক্যামিকেলের সাথে মেশানো হয় বহুল পরিচিত আয়ূর্বেদিক ওষুধ চ্যবন প্রাশ। যা দেখতে অনেকটা হালুয়ার মতো।
এই বিশেষ হালুয়া খেলে নেশার ঘোরে দিগবিদ্বিক শুণ্য হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে মানুষ। এই বড়ি খাইয়েই মানুষের সর্বশ্ব হাতিয়ে নেয় অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা।
রাজধানীর শনির আখড়া থেকে এই অজ্ঞান পার্টির হোতা মিজানসহ পাঁচ জনকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, চক্রটি কমপক্ষে ২০ বছর ধরে মানুষকে সর্বশান্ত করে আসছে চক্রটি। ঘটিয়েছে কমপক্ষে ৭০০টি ঘটনা।
চক্রের সদস্যরা তাদের তৈরি এই বড়ি নিয়ে রাজধানীর টার্মিনালসহ জনাকীর্ণ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। এরপর ওষুধ বিক্রির ছলে মানুষকে প্রলুব্ধ করে।
টার্গেট করা ব্যক্তির আশপাশে অবস্থান নেয় তাদের অন্য সদস্যরা। বড়ি সেবনের পর অজ্ঞান হয়ে পড়লে লুটে নেয় সব কিছু। সেই সঙ্গে রাস্তার পাশে ঝোপঝাড়ে ফেলে দেয়।
হারুন অর রশিদ জানান, অজ্ঞান পার্টির হোতা মিজান এক সময় ছিলেন সবজি বিক্রেতা। এরপর কাজ করতেন মোজার দোকানে। পরে জড়িয়ে পড়েন এ কাজের সাথে।
এই কাজে রিবট্রিল ও মিলিয়াম জাতীয় ঘুমের ট্যাবলেট গুঁড়ো করে তা চ্যবন প্রাশ ও খোরমার সাথে মিশিয়ে তৈরি করা হয় বিশেষ হালুয়া। যা খেলে মানুষের নেশা ও ঘুম আসে; জ্ঞান হারায়।
যৌনশক্তি বৃদ্ধি ও পেটের সমস্যার উপশমের কথা বলে বিভিন্ন জায়গায় এই বিশেষ হালুয়া বিক্রি করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা।
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে তারা কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করে হালুয়া খেতে প্রলুব্ধ করে। খাওয়ার পর ওই ব্যক্তি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সবকিছু নিয়ে সটকে পড়ে চক্রের সদস্যরা।
হারুন অর রশিদ বলেন, এরা ভ্রাম্যমাণ অপরাধী। তাদের খাওয়ানো নেশা জাতীয় দ্রব্যের বিষ ক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।
তিনি মনে করেন কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে অজ্ঞান পার্টির খপ্পর থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব। পথে ঘাটে কারও কথায় প্রলুব্ধ হয়ে কিছু না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
একাত্তর/এআর
