আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় দেশে প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধ হচ্ছে না। পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন অধূমপায়ীরাও। দুটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার হিসেবে, নিষিদ্ধ হবার পরও ঢাকার ১১৮টি আবাসিক হোটেল, ৩৫৫টি রেস্টুরেন্ট ও ৫৩টি যাত্রী বোঝাই ট্রেনে ধূমপান চলে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধূমপান নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই আইন সংশোধন হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতাও দরকার বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়। জনগণ সচেতন না হলে আইন করেও কোনো লাভ হবে না। নিষিদ্ধ স্থানে ধূমপানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে সবাইকে।
সম্প্রতি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ওপর একটি গবেষণা করেছে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট। এতে দেখা গেছে, ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সারের হার বেশি। আর নারীদের তুলনা পুরুষেরা এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আর এর কারণ ধূমপান।
ধূমপান বিরোধী প্রজ্ঞা ও ভয়েস নামে আরও দুটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণা বলছে, ঢাকার ১১৮টি আবাসিক হোটেল, ৩৫৫টি রেস্টুরেন্ট এমনকি ৫৩টি যাত্রী বোঝাই ট্রেনেও ধূমপান নিয়ন্ত্রণের আইন কার্যকর নয়। ধূমপায়ীরা প্রতিনিয়তই এই আইন ভাঙছেন।

প্রজ্ঞার গবেষক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ট্রেনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকার বিধান অকার্যকর হওয়ার কারণে ব্যাপকভাবে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন অধূমপায়ীরা। ৫২৬ স্থান সরেজমিনে দেখতে গিয়ে ৪১টিতে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকা পাওয়া গেছে, যার একটিতেও পরিপূর্ণভাবে আইন মেনে ডিএসএ রাখা হয়নি।
এই গবেষক দাবি করেন, তামাক কোম্পানিগুলোই খোলা স্থানে ধূমপানে উৎসাহিত করছে। তিনি বলেছেন, আইন প্রয়োগের দুর্বলতার সুযোগে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন অধূমপায়ীরাও। ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকাকে ধূমপানমুক্ত এলাকা থেকে আলাদা রাখার বিধান থাকলেও তা কোথাও মানা হয় না। ফলে পরোক্ষ ধূমপানের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: একুশে ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর যেসব সড়ক বন্ধ থাকবে
রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে), প্রজ্ঞা এবং ভয়েস আয়োজিত ‘বিল্ডিং এ টোব্যাকো ফ্রি বাংলাদেশ- লোকাল অ্যান্ড গ্লোবাল এভিডেন্স শেয়ারিং’ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সিটিএফকের সহায়তায় ভয়েস পরিচালিত তামাক কোম্পানির কূটকৌশল সংক্রান্ত আরেকটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণার উপসংহারে বলা হয়েছে, ধূমপানের জন্য নির্ধারিত এলাকা অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের ছোবল থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে পারে না এবং এই বিধান চালু রেখে ধূমপানমুক্ত আইন বা নীতির সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
ভয়সের উপস্থাপনায় বল হয়, তামাক কোম্পানিগুলো নগদ টাকা ও সরঞ্জামাদি দিয়ে রেস্তোরাঁগুলোতে ডিএসএ স্থাপনে উৎসাহিত করে থাকে। বিদ্যমান আইনের দুর্বলতার কারণেই কোম্পানিগুলো এই কূটকৌশল অবলম্বনের সুযোগ পাচ্ছে।
একাত্তর/এসি
