পুরান ঢাকার বেশিরভাগ বাড়িই আবাসিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মিশ্র ভবন। উপরে বসবাস করেন বাসিন্দারা। নিচেই ভারী যন্ত্রাংশের কারখানা।
এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উদাসীনতার দিকে আঙুল তুললেন বাসিন্দারা। তবে, গুলিস্তানের ঘটনার পর এবার নড়ে বসেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
সচিব জানান, ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো তিন মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলা হবে। প্রথমে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙ্গে ফেলা হবে। এরপর একে একে বাকিগুলো ভাঙ্গা হবে।
পুরান ঢাকার প্রতি কদমে কদমেই রয়েছে ঝুঁকি। সরু রাস্তায় গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। প্রত্যেকটি বাড়িতে একই সাথে থাকে পরিবার। আর নিচেই রয়েছে কারখানা।
সরোজমিনে দেবীদাস ঘাট লেনে গিয়ে দেখা যায় সেখানকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই বাসিন্দাদের পাশাপাশি একই ভবনে আছে কারখানার ভারী যন্ত্রাংশ।
এক বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি লোহার পিলারের উপর ভর করে গড়ে উঠেছে তিনতলা বাড়ি। বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব কারখানা।
আবার অনেক বাড়ির বেসমেন্টেও বসানো হয়েছে কারখানা। বৈদ্যুতিক লাইনের অবস্থা একই সঙ্গে নাজুক এবং বিপজ্জনক। তারগুলো ঝুলে আছে বিচ্ছিন্নভাবে।
নেই আলোবাতাস আসার পথ। নেই আগুন প্রতিরোধ বা জরুরি বের হবার পথ। স্থানীয়রা জানান, বছরের পর বছর এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই বআস করে আসছেন হাজারো পরিবার।
ঝুকিপূর্ণ ভবনে ধারবাহিকভাবে বিস্ফোরণের ঘটনার পর এবার ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে টনক নড়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো। ১৮৭ ভবন মালিককে নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে রাজউক। নকশার ব্যত্যয় থাকলে সেটা যেন নিজ উদ্যোগে ভবন মালিকরা ঠিক করে নেন।
বেজমেন্টের অবস্থা-সংক্রান্ত জরিপের কাজ শেষ হলে ওই সব ভবন মালিককেও নোটিশ দেওয়া হবে। তারা যেন বেজমেন্টের ব্যবহারবিধি যেন মেনে চলেন।
রাজউক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা বলেন, যেসব ভবনে আবাসিকের অনুমোদন নিয়ে কারখানা করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, এরইমধ্যে রাজধানীতে শনাক্ত হওয়া ঝুকিপুর্ন ৪০টি সরকারি ভবন আগামী তিন মাসের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলা হবে।
এরইমধ্যে ভবনের ঝুকি নির্ণয়ের জন্য ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা করছে রাজউক। সে ল্যাব দ্বারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ভবনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাবে।
একাত্তর/এআর
