ঢাকা নিউ মার্কেটের নিউ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় আগুন লাগার সাথে ওভারব্রিজ অপসারণের কোনো সম্পর্ক নেই বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।
শনিবার দুপুরে পাঠানো এ বিবৃতিতে ভিত্তিহীন সংবাদ ও গুজব প্রচার থেকে বিরত থাকারও আহবান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিউ সুপার মার্কেটে আগুন লাগাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যক্তি/ স্বার্থান্বেষী মহল নিউ মার্কেটের সাথে সংযুক্ত পথচারী পারাপার সেতুর সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে কর্পোরেশনের উদ্যোগকে সম্পর্কিত করার অপচেষ্টা করছেন। ফলশ্রুতিতে, গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, যা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ঢাকা নিউ মার্কেটের সাথে সংযুক্ত পথচারী পারাপার সেতুটি গতবছরই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। তখন সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ফলক ঝুলিয়ে দেয়া হয় এবং সেতুটি বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে লোকজন চলাচল করছিল, যা অত্যন্ত অনিরাপদ। এর প্রেক্ষিতে গত ১২ এপ্রিল সেতুটির সাথে মার্কেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। সে ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে ভোর সোয়া পাঁচটা পর্যন্ত সেতুটির সাথে মার্কেটের দ্বিতীয় তলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কর্পোরেশন সেদিনের মতো কার্যক্রম শেষ করে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ভোর পাঁচটা ৫০ মিনিটে আগুন লাগে। ফলে আধাঘণ্টারও বেশি আগে সম্পন্ন সেতুর সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ কার্যক্রমের সাথে এ অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্যত ও অদৃশ্য কোনও ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই।
এ দাবির পক্ষে বিবৃতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কারণ হিসেবে জানিয়েছে:
(১) সেতু বিচ্ছিন্নকরণ স্থান হতে ৪০০ ফুটেরও অধিক দূরত্বে আগুন লেগেছে।
(২) সেতু বিচ্ছিন্নকরণে কর্পোরেশন কোনো গ্যাসকাটার ব্যবহার করেনি। হুইল এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে সেতু বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। আর বিচ্ছিন্নকরণ স্থানে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা, ডিপিডিসির কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন যাতে করে নিরাপদে এ কার্যক্রমটি সম্পন্ন করা যায়। এছাড়াও সেতুর সাথে মার্কেটের সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের আগে থেকেই সেতুর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ওভারব্রিজ ভাঙ্গতে গিয়ে আগুন, দাবি ব্যবসায়ীদের
শনিবার ভোর পাঁচটা ৪০ মিনিটের দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ফায়ার সার্ভিসের ৩০ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি কাজ করছে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, সেনা, বিমান ও নৌ বাহিনীর সদস্যরা।
একাত্তর/জো
