সপরিবারে ঈদ করতে বাসে করে শরীয়তপুরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন সুলতান দেওয়ান। পথে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের ষোলঘর এলাকায় ট্রাকের সাথে তাদের বাসটির সংঘর্ষের ঘটনায় গুরুতর আহত হন তার পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে তিনজন।
ভাগ্যক্রমে চার মাসের ছোট মেয়ে ফারিয়াসহ তিনি রক্ষা পেলেও ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার স্ত্রী জেসমিন সাদিয়া (২৮), বড় মেয়ে সায়েমা দেওয়ান ছাফা (১১) ও মেঝো মেয়ে সুরাইয়া দেওয়ান সামিহা (৭)। তাদের মধ্যে দুই মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন জরুরী বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আলাউদ্দিন।
ডা. মো. আলাউদ্দিন জানান, শিশুদের মা জেসমিন সাদিয়া মাথায় আঘাত পান। শিশু সামিহার ডান পা উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, বড় মেয়ে সায়েমার ডান পা ভেঙ্গে গেছে, মুখমণ্ডলেও মারাত্মক আঘাত পেয়েছে শিশুটি। তারা জরুরী বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দুই শিশুর মধ্যে ছোট মেয়েটির অবস্থা বেশি গুরুতর। তবে দুইজনের কাউকেই শঙ্কাযুক্ত বলা যাবে না বলে জানান তিনি।
সুলতান দেওয়ান জানান, তারা পাশাপাশি সিটে ছিলেন। দুর্ঘটনায় বাসটির একপাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সেই পাশেই ছিলেন তার স্ত্রী ও দুই মেয়ে।
হাসপাতালে দেখা গেছে, মেঝো মেয়ে সুরাইয়াকে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে। পাশে ট্রলিতে বড় মেয়ে সায়েমার পায়ে ও মুখমণ্ডলে ব্যান্ডেজ লাগানো। তাদের মা রয়েছেন নিউরো সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। সন্তানদের বাবা ও অন্যান্য স্বজনরা ছুটাছুটি করছেন এদিক-ওদিক।
সুলতান জানান, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মেঝো মেয়ের জন্য রক্তের প্রয়োজন। তারা রক্তের জন্য ছুটাছুটি করছেন। একদিকে সন্তানদের ছটফট আরেকদিকে তাদের মা প্রায় পাগল হয়ে পড়েছেন সন্তানদের দেখার জন্য। তিনি একবার মেয়েদের কাছে, আবার স্ত্রীর কাছে ছুটছেন।
দিশেহারা হয়ে তিনি বলছিলেন, ‘হে আল্লাহ! এখন আমি কি করবো! সবাইকে নিয়ে গ্রামে গিয়ে ঈদ করবো ভাবছিলাম, এ কি হলো! এখন সবাইকে নিয়ে আছি হাসপাতালে!’
সুলতান দেওয়ান একটি ফার্নিচারের দোকানের কর্মী। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কদমতলী গ্রামে। খিলগাঁওয়ে পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে উঠেন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে মুন্সীগঞ্জের ষোলঘরে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখন হাসপাতালে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় হাইকমিশনারের বিদ্যানন্দ পরিদর্শন
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া জানান, এ দুর্ঘটনায় বিল্লাল (৪০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। আহত চারজনই ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একাত্তর/জো
