স্মরণকালের ভয়াবগ আগুনে পড়ে ছাই হয়েছে রাজধানীর অন্যতম বড় পাইকারী তৈরি পোশাক বাজার বঙ্গবাজার মার্কেট। সর্বস্ব হারিয়েছে মার্কেটটির হাজারো ব্যবসায়ী। পুড়ে গেছে প্রায় তিন হাজার দোকান। ঈদের আগে যা অনেক পরিবারের জন্য ডেকে এনেছে বড় বিপর্যয়।
তবে জীবন থেকে থাকে না। একটু একটু করে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে ভাগ্য বদলের নতুন উদ্যমে কেনাবেচা শুরু হয়েছে বঙ্গবাজারে। ঈদের ছুটির পর, দোকান খুলে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে সহানুভূতিশীল হয়ে অনেকে এলেও ছুটির পর ক্রেতা আসছে না। এছাড়া প্রখর রোদে ছাতার-তলায় দোকান চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বঙ্গবাজারে গিয়ে সরেজমিনে কথা হয় এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। আটজনের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রচণ্ড রোদে ছাতা পেতে নতুন করে জীবন সংগ্রাম শুরু করেছেন বঙ্গবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আরিফ। তার সেই সংগ্রামেও একটুখানি বাতাসে পরে যাওয়া ছাতাটার মত রয়েছে শত প্রতিকূলতা। সবচেয়ে বড় সংশয়, আবারও কবে স্থায়ী দোকান পাওয়া যিবে।
আরিফের মতো জীবনসংগ্রামের কঠিন পথে নেমেছেন মোহাম্মদ বিল্লালও। দোকান পুড়ে নিঃস্ব হওয়া কপাল আবার নতুন করে সাজাতে চান তারা। তারা বলছেন ঈদের আগে সহানুভূতিশীল হয়ে অনেকে তাদের দোকান থেকে কেনাকাটা করলেও ঈদের পর একেবারেই বেচাবিক্রি হচ্ছে না, ভালো পরিবেশ না থাকায় আসছেন না ক্রেতারা, দুশ্চিন্তার ভাঁজ তাদের কপালে।
বঙ্গবাজার এলাকার মহানগর শপিং কমপ্লেক্সের নিচে ফুটপাতে, এনেক্স টাওয়ার চার তলা পর্যন্ত প্রায় বেশিরভাগ দোকানই খোলা হয়েছে। এছাড়াও বঙ্গ ইসলামিয়া মার্কেটও কিছু দোকান ঈদের আগেই খুলে দেয়া হয়েছিল। ঈদের এক সপ্তাহ পর আবার দোকান খুলে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। আর এনেক্স টাওয়ারের পাঁচ থেকে সাত তলা পর্যন্ত নতুন করে মেরামত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার গল্প শোনাবেন শেখ হাসিনা
পোড়া ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে জেনে এখানকার ব্যবসায়ীরা প্রচণ্ড রোদ আর আসছে বর্ষায় বৃষ্টি থেকে তাদের মালামাল বাঁচাতে মাথার ওপর একটি ছাদের দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষার আগে টিনশেডের হলেও একটি ছাদ নির্মাণ করা দরকার। তা নাহলে বৃষ্টিতে বেচাকেনা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া অন্য কোন উপায় থাকবে না।
রমজান মাসে চার এপ্রিল রাজধানীর বঙ্গবাজারে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৫০ ইউনিটের সর্বাত্মক চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় চার হাজার দোকান। বঙ্গবাজারসহ মহানগর শপিং কমপ্লেক্স, এনেক্সকো টাওয়ার, বঙ্গ ইসলামিয়া মার্কেট ও বঙ্গ হোমিও কমপ্লেক্সের এসব দোকানের মোট ৩০০ কোটি টাকার ওপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
