সঠিক পরিকল্পনা এবং ডিজাইন না করে কাজ শুরু করায় প্রায় চার হাজার কোটি টাকার দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা সংগ্রহের নেটওয়ার্কের কাজ এবং ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ একইসাথে শুরু হলে এই বিপর্যয় হতো না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা ওয়াসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা ওয়াসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানান, বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহের লাইন না করেই পরিকল্পনাহীন এমন কাজের দায় ঢাকা ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের ওপর বার্তায়। বিদেশি ঋণের টাকায় বিশাল এই প্রকল্প থেকে এক টাকাও রাজস্ব আদায় হবে না ওয়াসার। কিন্তু ঋণের সুদসহ প্রকল্প চালিয়ে রাখতে বছরে শত শত কোটি টাকা গুণতে হবে ওয়াসাকে।
অপরিকল্পিত এই প্রকল্পের ব্যয় মেটাতে গ্রাহকদের পানির দাম আস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর আশঙ্কার কথাও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সমাপ্ত হওয়া ট্রিটমেন্ট প্লান্টে কোনো ডোমেস্টিক স্যুয়ারেজ আসার ব্যবস্থা না থাকায় প্লান্টটি কার্যকরিতা হারিয়ে ফেলার শঙ্কা রয়েছে। এই প্লান্ট দিয়ে হাতিরঝিলের চারিপাশে ঢাকা উত্তর সিটি করর্পোরেশনের তৈরি করা ড্রেনেজ লাইনের ৫০ কোটি লিটার ময়লা পানি পরিশোধন করে বালু নদীতে ফেলছে ওয়াসা। যদিও হাতিরঝিলের চর্তুদিকে স্যুয়ারেজ লাইনগুলো অচল থাকায় বর্জ্যসহ পানিও বেগুনবাড়ির খাল দিয়ে সরাসরি গিয়ে পড়ছে ওই বালু নদীতে। শত শত কোটি টাকা খরচ করে ময়লা খালে ময়লা পানি পরিশোধন করে ফেলার এই প্রকল্প ঢাকা ওয়াসার ইতিহাসে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার বড় নজির হয়ে থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
এ প্রকল্পের জন্য চীন সরকারের কাছ থেকে হয়েছিল তিন হাজার আটশ' কোটি টাকা। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, বসুন্ধরা, বাড্ডা, রামপুরা, সংসদভবন, ফার্মগেট, তেজগাঁও, আফতাবনগর, নিকেতন, হাতিরঝিল এবং বনশ্রীসহ এসব অঞ্চলের বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য পরিশোধন করতে দাশেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল।

প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক আরও জানান, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যহীন এই প্রকল্পটি আগামী ১৩ জুলাই উদ্বোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। এক টাকাও রাজস্ব আদায় না হওয়ায় দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগাটি বোঝায় পরিণত হবে।
তিনি বলেন, পরিকল্পনা করে প্রকল্পের শোধনাগার স্থাপনের পাশাপাশি সংগ্রহের লাইন স্থাপন করা হলে নগরবাসীর পয়ঃবর্জ্য দূষণমুক্ত করে গ্রাহকদের সেবা দেয়া যেত। একইসাথে এই সেবার বিপরীতে বিশাল অংকের রাজস্ব পেতে পারতো ওয়াসা। কিন্তু ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান যেনতেনভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহী হওয়ায় দাশেরকান্দি প্রকল্প এখন মহাবিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
