পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি দাবি করেন, রাজপথে বিএনপির আন্দোলন দেখে হতাশ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা আবোল-তাবোল বলছেন।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো সচেতেনভাবে এসব প্ররোচনার ফাঁদে পা না দেওয়ায় সরকারি দলের মন্ত্রী ও নেতারা হতাশ হয়ে আবোল-তাবোল কথা বলে লোক হাসাচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন খন্দকার মোশাররফ। এসময় তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন সরকারের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, সরকারি দলের সম্মেলনের দিন বিএনপি ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেও, বিএনপির কর্মসূচির দিন পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির আন্দোলন যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।
মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগ যে পাল্টা শান্তি সমাবেশ করার কথা বলল, কয়টা ইউনিয়নে তারা শান্তি সমাবেশ করেছে? তারা তো শান্তি সমাবেশ করতে পারেনি। এই পাল্টা কর্মসূচি দেয়ার অর্থ হচ্ছে যে, তারা দূর্বল, তারা দৈন্যদশায় পড়েছে এবং আবোল-তাবোল কর্মসূচি দিচ্ছে।
মোশাররফ অভিযোগ করেন, সরকার প্রতিনিয়ত জনগণকে ভয় দেখানো সভা-মিছিলে হামলা করে আহত-নিহত, নির্যাতিত করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে এবং বিরোধী দলের প্রতিটি কর্মসূচির দিন পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে ক্রমাগত দ্বন্দ্ব ও সঙ্ঘাতের উসকানি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, সারসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কেটে তাদের ফতুর করে দিয়ে উন্নয়নের নামে ধোঁকা দেয়া হচ্ছে। একদিকে কর্মহীন, ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে আর অন্যদিকে বাড়ছে হাতে গোনা কিছু মানুষের অবৈধ সম্পদ।
বিএনপির এই জেষ্ঠ নেতা বলেন, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় যখন দেশের স্বার্থে সবার যখন একযোগে কাজ করা দরকার, তখন অবৈধ ও দুর্নীতিবাজ সরকার সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে জনগণের স্বার্থে যারা কথা বলে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে, গুলি চালিয়ে, মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে, নির্যাতন করে স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় টিকে থাকার শেষ চেষ্টা করছে।
অতি সম্প্রতি সরকারের অনুগত কয়েকটি টিভি চ্যানেলে কয়েক বছর আগে ডিজিটাল কায়দায় বানানো এমন এক ভিডিও প্রচার করেছে অভিযোগ করে মোশাররফ বলেন, তা দেখলে যে কোনো নাগরিকও বুঝবে, এটা নোংরা রাজনৈতিক অপপ্রচারের এক বানোয়াট ও নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিমত জানতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, আপনারা আগেও এই বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। আমি একই জবাব দেব। এই বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। কোন আগ্রহও নেই।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান।
একাত্তর/এআর
