বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেও সরকার অনুমতি দিচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে এক আলোচনায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। এখন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া ছাড়া কোনো পথ দেখছেন না চিকিৎসকরা। অথচ সে সুযোগ দিচ্ছে না সরকার।’
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ২৬দিন ভর্তি রয়েছেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকরা তাকে ‘সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে’ রেখেছেন।
৭৮ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ৩৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার ১০ বছর এবং জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় ৭ বছরের সাজা হয়েছে।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ওই দুই মামলায় সাজা খাটার মধ্যেই পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালের মার্চে সাজা স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার।
বাসায় থেকে চিকিৎসা করার এবং বিদেশে না যাওয়ার শর্তে তিনি বর্তমানে রাজধানীর গুলশানের বাসায় থাকছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, মামলা দিয়ে তাকে (খালেদা জিয়া) আটকে রেখে আন্দোলন দমানো যাবে না।
সরকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আত্মাকে হত্যা করেছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলে ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে।
‘আন্দোলনে বিজয় অর্জন করতেই হবে, এখান থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। নইলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না।’
ফখরুল বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খোলা মাঠে কারচুপির নির্বাচন করে ট্রফি নিয়ে যেতে চায় সরকার। এবার আর ওয়াকওভার পাবে না আওয়ামী লীগ, জনগণ রুখে দেবে।
