আগামী দুই জানুয়ারি থেকে লাগাতার হরতাল-অবরোধের পাশাপাশি গণকারফিউ কর্মসূচি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি ও আন্দোলন করা দলগুলো। সে লক্ষ্যে নতুন বছরের শুরুতেই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে বিজয় উৎসব পালন করতে সবাইকে রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
রোববার প্রেসক্লাবের সামনে মিছিল পরবর্তী সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেন, ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট মিলে ডামি নির্বাচন করতে যাচ্ছে।
জনগণকে এই নির্বাচন বর্জন করার আহ্বান জানান দলটির নেতাকর্মীরা।
বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ২৪ সালের শুরুতেই এই সরকারকে বিদায় দিয়ে মানুষ এবার দেশকে রক্ষা করবে।
গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ওবায়দুল কাদের যেহেতু বলেছেন, বিএনপি লাশ ফালানোর চেষ্টা করছে- তার মানে ওনারা লাশ ফেলবেন এবং দায় চাপিয়ে দিবেন।
নির্বাচনের তফসিল বাতিল ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল করে গনঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাও। এসময় গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, ৭ জানুয়ারি এক তরফা ভোট নয়, এই পল্টন থেকে রাজনৈতিক দলগুলো সম্মিলিতভাবে ইন্ডিয়ান হাইকমিশনের অভিমুখে পদযাত্রা করবে।
বিএনপির সাথে সরকার পতনের আন্দোলনে থাকা ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা নির্বাচন বন্ধ করতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে।
তাছাড়া ভোট বর্জনে গণসংযোগ করে কৃষক দলের নেতাকর্মীরা। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাবার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় নেতা জয়নুল আবদীন ফারুক।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এদিন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে লিফলেট বিতরণ করতে দেখা যায়। পরে বিকেলে তিনি অনলাইনেও ব্রিফিং করেন। ওই ব্রিফিংয়ে রিজভী নতুন কর্মসূচি সম্পর্কে ধারণা দেন।
রিজভী বলেন, সবার কথা বিবেচনা করে ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জানুয়ারি হালকা কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন নেই উল্লেখ করে জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি । ওই চিঠিতে বলা হয়, ডামি নির্বাচন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নাশকতা চলছে। বাস-ট্রেনে অগ্নিসংযোগ সরকারের পূর্বপরিকল্পিত। বিএনপির ওপর দায় চাপানো উদ্দেশ্যমূলক। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা বিনষ্ট করছে আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশ। বিএনপির ওপর দায় চাপিয়ে সরকার সুবিধা নিচ্ছে। সুপরিকল্পিত এই ধ্বংসযজ্ঞকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিএনপি সকল সহিংসতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিচ্ছে, পালন করছে।
২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর থেকে সরকার পতন ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো।
ভোট বর্জন করে সহিংস কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। প্রায় প্রতিদিন হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি ডাকা হচ্ছে। আর এসব কর্মসূচিতে যানবাহনে আগুন দেয়া হচ্ছে।
কয়েক দফা অবরোধ-হরতালের পর ‘অসহযোগ’ আন্দোলনের ঘোষণা দেয় দলটি।
একই দাবিতে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিলো বিএনপি। ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে সেই নির্বাচনে জিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি গণফোরামের ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ভোটে অংশ নেয়। ভোটে ভরাডুবি ঘটে বিএনপির। এরপর কারচুপির অভিযোগ তোলে তারা। সংসদের মেয়াদের শেষ দিকে এসে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করেন।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এদিন দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ২৭টি রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৫১৩ জন এবং স্বতন্ত্র থেকে ৩৮২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের প্রচার-প্রচারণা চলবে আগামী ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।
গুপ্তহত্যার চক্রান্তে বিএনপি
‘১১ পরিকল্পনাই এগিয়ে নিয়ে যাবে আওয়ামী লীগকে’
থার্টিফার্স্ট ও নববর্ষে শুধু গণসংযোগ করবে বিএনপি
আগুন দিয়ে মানুষ হত্যায় আমেরিকার মুখ বন্ধ: হাসিনা
রিজভীর খোঁজে পুলিশ, যে কোনো সময় গ্রেপ্তার