একের পর এক বহিষ্কার করার পরও উপজেলা ভোটের মাঠ থেকে সরানো যাচ্ছে না বিএনপির তৃণমূলের নেতাদের। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটি এ পর্যন্ত ২১২ নেতাকে বহিষ্কার করলেও কেউ ফিরে আসছেন না। সকলেই নির্বাচন করাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএনপির যে তৃণমূলের ওপর কমান্ড কাজ করে না, সেটা স্পস্ট। তবে, এত তৃণমূল নেতার বহিষ্কারের ঘটনা এবং এর পরিণতি কী হতে পারে, এ নিয়েও দলে নানা আলোচনা আছে।
অপরদিকে, জামায়াত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার অনেক আগে থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করা শুরু করে। রংপুরের তিনটি উপজেলায় তারা তাদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করে তাদের পক্ষে নেতাকর্মীরা মাঠেও নামেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত কমসংখ্যক প্রার্থীকে বুঝিয়ে নির্বাচন থেকে ফেরানো যাচ্ছে। তাঁরা দলীয় নির্দেশনা অমান্য করার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাকেও আমলে নিচ্ছেন না। এমনকি প্রার্থীদের নির্বাচনবিমুখ করতে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলার নেতাদের বিশেষভাবে দায়িত্ব দেওয়া হলেও সেটিও খুব একটা কাজে লাগছে না।
এদিকে তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে রংপুরের চার উপজেলায় ভোট হতে যাচ্ছে। এখানেও কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রংপুরে বিভিন্ন উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলটির নেতাকর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি রংপুরের চার উপজেলার সাত নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু এরপরও দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্বাচনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পারেনি বলে জেলা ও উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন।
এদিকে আগামী ২৯ মে তৃতীয় দফার নির্বাচনে রংপুর সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাইয়ুম জাদু, গঙ্গাচড়া উপজেলার আলবিদিতর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। গঙ্গাচড়া উপজেলার বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আখতারুজ্জামান মিল্টন ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়েছেন। তাদের সঙ্গে গঙ্গাচড়া বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী কাজ করছেন বলে দাবি ওই দুই নেতার।
চতুর্থ দফার নির্বাচন পাঁচ জুন হবে। এতে তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদে বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা ভাইস চেয়ারম্যান পদে অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন- উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খায়রুল ইসলাম, ইকরচালি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম ও যুবদল নেতা আশরাফুল আলম। তারা তিনজনই দাবি করেছেন, এলাকার জনগণের প্রয়োজনে তারা নির্বাচন করছেন। দলের অনেক নেতাকর্মী তাদের সঙ্গে কাজ করছেন।
এর আগে, গত দ্বিতীয় দফায় ২১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জে ভোট হয়েছিল। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিত দেখা গেছে।
দ্বিতীয় ধাপে বহিষ্কার হওয়াদের একজন বরগুনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম। তাঁর মতে, যাঁরা বহিষ্কার হয়েছেন, তাঁরা দলের অভ্যন্তরীণ ‘রাজনীতির শিকার’। যেখানে দলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নেই, সেখানে বহিষ্কার হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েক নেতা বলেছেন, সবাইকে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের বহুদিন জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। নির্বাচন বর্জন না করে অন্য কোনো উপায় বের করতে হবে। তা না হলে আমাদের রাজনীতিই থাকে না।
হিসাবে দেখা যাচ্ছে, প্রথম ধাপেও প্রার্থীদের থামাতে বিএনপির নেতৃত্বের তৎপরতা তেমন একটা কাজে লাগেনি। বোঝানোর পর মাত্র ১৬ জন নেতা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। বিএনপি নিশ্চিত করেছে, বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান অথবা সাবেক নেতা।
বহিষ্কৃত নেতারা ভোট কম পাওয়ায় বিব্রত বিএনপি 