বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশে ২০ কোটি মানুষ, ২০ কোটি সোলজার। বাংলাদেশ দখল করতে হলে ২০ কোটি মানুষের রক্তের উপর দিয়ে দখল করতে হবে।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
এসময় তিনি বলেন, ভারত বলে বাংলাদেশকে তারা স্বাধীন করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা বলতে চাই, বাংলাদেশকে দেশের জনগণই স্বাধীন করেছে। তোমরা পাকিস্তানকে ভাগ করার জন্য সহায়তা করেছো সেটিও তোমাদের স্বার্থে। বাংলাদেশকে যদি দখল করতে হয় ২০ কোটি মানুষের রক্তের উপর দিয়ে দখল করতে হবে। বাংলাদেশের সব হিন্দুরা ইসকনের সদস্য না। ইসকনের যারা সদস্য অনেকেই বাংলাদেশি না।
আব্বাস বলেন, এদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তৈরি করার। আর এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে পলাতক শেখ হাসিনা।
যেসকল ব্যবসায়ী শেখ হাসিনার দোসর ছিলো তাদের হাতে দেশ নিরাপদ না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিছু কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আছে যারা এই সরকারকে বিপদে ফেলে দেবে। কিছু কিছু সাংবাদিকরাও তাদের সাথে আবার যুক্ত হয়েছে। যারা তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে তাদের সাথে বিরুদ্ধে এই সরকার যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে জনগণের রোষানলে পড়তে পারে। সংবাদ পত্রের স্বাধীনতার কথা বলে দেশকে অস্থির করবে তা হতে দেয়া যাবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, বিএনপিকে নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। সাংবাদিকতা, সংবাদপত্র আর অপসাংবাদিকতা বুঝতে হবে। আমরা স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই কিন্তু অপসাংবাদিকতা চাই না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ ভারত থেকে এসে স্বাধীনতার গল্প শুনেছে। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয় নাই। যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাদের কোন দল ছিলো না। তাদের কোনো দাবি-দাওয়াও ছিলো না।
এসময় তিনি বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা পরিকল্পিতভাবে বিদেশি শক্তি দিয়ে করা হয়েছিলো। ভুল আর মিথ্যা মামলা করে তারেক রহমানকে ফাঁসানো হয়েছিলো এবং সাজা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু আজ প্রমাণ হয়েছে তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত না। তাই তিনি খালাস পেয়েছে।
আব্বাস বলেন, এটি একটি সুসংবাদ। সামনে আরো সুসংবাদ আসবে আশা। ন্যায় বিচারের সময় এসেছে। সবাই মিথ্যা মামলা থেকে খালাস পাবে আশা করেন।
আব্বাস আরো বলেন, বিভিন্নভাবে দেশকে আর এই সরকারকে বিব্রত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু বিএনপিসহ অনেক দল সরকারকে সফল করার চেষ্টা করছে। গণতন্ত্র আর আওয়ামী লীগ এক সাথে যায় না। বিএনপির সাথে গণতন্ত্র যায়। কারণ বারবার ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিএনপি সেটা প্রমাণ করেছে।
ভারতের মিডিয়া অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে: রিজভী