বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে দলটি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী গত এক সপ্তাহে অন্তত ২৯টি বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা ফ্যাসিবাদী আমলের মিথ্যা বয়ান পুনরায় প্রচার করছে। তিনি একে সুস্থ রাজনীতির বদলে ‘নোংরা কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, যারা কখনো সংস্কার নিয়ে ভাবেনি, তারাই এখন সংস্কারের দাবিদার বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির পূর্ববর্তী অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ‘ভিশন-২০৩০’ শিরোনামে ২০১৬ সালেই বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। এছাড়া ২০২২ ও ২০২৩ সালে ২৭ দফা ও পরবর্তীতে আরও বিস্তৃত ৩১ দফা প্রস্তাব জাতির সামনে পেশ করা হয়েছে। সংসদীয় ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব বিএনপিই প্রথম করেছে।
মাহদী আমিন বলেন, একক ক্ষমতার আধিপত্য রোধে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাব সবার আগে দিয়েছে। ২০১৪ সালেই তারেক রহমান পাঁচ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কিছু সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি।
তাদের প্রধান আপত্তির জায়গাগুলো হলো:
বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি ক্যাডেটদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে বিএনপি। মাহদী আমিনের মতে, ক্যাডেটদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, যা নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধা হতে পারে। এ বিষয়ে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষক নিয়োগে অস্বচ্ছতা: ইসি অনুমোদিত ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষকের মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থা থেকেই প্রায় ৩৪ হাজার পর্যবেক্ষক নেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থার নেতৃত্বে বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্যদের উপস্থিতি থাকায় কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে, পর্যবেক্ষকদের তালিকা পুনরায় যাচাই করে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বাদ দেয়া, অভিজ্ঞতা কম থাকা সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষক সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং ভোটকেন্দ্রে একই সময়ে দুজনের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার দাবিও জানিয়েছে বিএনপি।
মাহদী আমিন স্পষ্ট জানান, বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।
বিটিভিতে ফিরছে নির্বাচনী ভাষণ, ৯ ফেব্রুয়ারি দেবেন তারেক রহমান