নওগাঁয় এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান ও বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি দুর্নীতিবাজ ও অর্থ পাচারকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জনগণের লুণ্ঠিত অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে।
বৃহস্পতিবার সকালের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। যারা জনগণের পকেট কেটে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে এবং বিদেশে টাকা পাচার করেছে, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে পাচার হওয়া অর্থ পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে নিয়ে আসবো।
নওগাঁবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেন। জামায়াত আমির বলেন, পুরো উত্তরবঙ্গকে ‘কৃষি শিল্পের রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আম ও লিচু প্রসেসিং কারখানা স্থাপন এবং একাধিক কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার (কোল্ড স্টোরেজ) তৈরি করে বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, নওগাঁ শহরের রাস্তাগুলো ফোর-লেনে উন্নীত করা এবং একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। অবহেলিত নওগাঁর পর্যটন খাতের আধুনিকায়ন করা হবে।
শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন, জামায়াত সরকারে গেলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত পড়ালেখা সম্পূর্ণ ফ্রি করা হবে। এছাড়া তিনি বলেন, নারীদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না, এমন নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হবে। যুবকদের বেকার ভাতা নয়, বরং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নিজের ব্যক্তিগত ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, গত পাঁচ দিন ধরে আমার ওপর ধারাবাহিকভাবে মিথ্যাচারের মিসাইল মারা হচ্ছে। যারা পরিবারতন্ত্র কায়েম করতে চায়, তারা আইডি হ্যাক করে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে যারা এটি করেছে, আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।
নির্বাচন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আহবান জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চেয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ এবার চাঁদাবাজ ও মামলাবাজদের পরাজিত করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত সব ধর্মের মানুষকে বুকে ধারণ করে একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে কাজ করবে।
৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপির শেষ নির্বাচনী জনসভা