সময় পেরিয়েছে সাড়ে চার দশক। বদলেছে বাংলাদেশ, বদলেছে রাজনীতির প্রেক্ষাপটও। কিন্তু চেষ্টা করেও থামানো যায়নি রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানকে নিয়ে হওয়া আলোচনা কিংবা মূল্যায়ন; বরং এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ক্ষণজন্মা এই রাষ্ট্রনায়ক। সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে একটি জাতির যাত্রাপথের অগ্রণী সেনানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী আজ (৩০ মে)।
সঙ্কটের মুহূর্তে একটি রাষ্ট্রের স্বপ্নকে যিনি উচ্চারণ করেছিলেন, এক ভূখণ্ডের মানুষের জন্য রূপ দিয়ে অস্তিত্ব রক্ষা করেছিলেন একটি পতাকার, তিনিই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মৃত্যুর সাড়ে চার দশক পরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যার নাম উচ্চারিত হয় রাষ্ট্রগঠন, আত্মনির্ভরতা আর জাতীয়তাবাদের এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে।
একাত্তরের সেই উত্তাল মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে জাতীয় ইতিহাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রে উঠে আসেন তরুণ সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব এবং যুদ্ধপরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠনের অস্থির সময় পেরিয়ে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ।
সত্তরের দশকের শেষভাগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন জিয়াউর রহমান। যার মধ্য দিয়ে শুধু একটি রাজনৈতিক দলই নয়, রাষ্ট্রচিন্তার এক নতুন ধারা সামনে আনেন তিনি। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে গ্রাম থেকে শহর, কৃষক থেকে উদ্যোক্তা—সবাইকে উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত করার কথা বলেছেন বারবার।
স্বল্প সময়ের শাসনকালেই জিয়াউর রহমান গ্রহণ করেন একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, বেসরকারি খাতের বিকাশ এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তাকে সমসাময়িক অনেক নেতার কাছ থেকে আলাদা করে দেয়। বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারেও তার ছিল বিশেষ ভূমিকা। মাত্র তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে দিকভ্রান্ত একটি জাতিকে আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু ইতিহাসের নির্মম মোড়ে আচমকা থেমে যায় সেই উজ্জ্বল যাত্রা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে বিপথগামী একদল সেনা সদস্যের হাতে নির্মমভাবে শাহাদাৎ বরণ করেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে নিভে যায় এই অনন্য রাষ্ট্রনায়কের জীবনপ্রদীপ।
জিয়াউর রহমান জনগণের মাঝে কতোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন, তার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ মেলে তার জানাজার নামাজে। তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা দেশ। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত জনপদ—অসংখ্য সাধারণ মানুষ চোখের জল, গভীর ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় বিদায় জানান ক্ষণজন্মা এই রাষ্ট্রনায়ককে। রাজনৈতিক নানা বাঁক বদলের পরও বাংলাদেশের ইতিহাসে তার অবদান ও প্রাসঙ্গিকতা আজও অম্লান।
