ফিফা বিশ্বকাপে রেকর্ড ‘হেক্সা’ জয়ের মিশন নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরবে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। আর সেলেসাওদের এই মেগা স্কোয়াডে কার্লো আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় বাজি ও চমকের নাম- ১৯ বছর বয়সী বিস্ময় বালক এনড্রিক!
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা এই তরুণ তুর্কিকে নিয়ে এবার প্রকাশ্যেই এক মস্ত বড় ভবিষ্যদ্বাণী করে বসলেন দেশটির কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ও সাবেক অধিনায়ক কাফু।

বিখ্যাত স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে দু’বারের বিশ্বকাপজয়ী কাফু বলেন, আমি ব্রাজিল দলের সব খেলোয়াড়কেই ভালো করতে দেখছি, বিশেষ করে এনড্রিককে। ব্যক্তিগতভাবে ওর ওপর আমার অগাধ আস্থা রয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আসন্ন বিশ্বকাপে এনড্রিকই হতে যাচ্ছে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ব্রেকআউট স্টার বা ট্রাম্প কার্ড।
রিয়াল মাদ্রিদে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় এই মরশুমের মাঝামাঝিতে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক লিওঁ-তে ধারে (লোন) যোগ দিয়েছিলেন ১৯ বছরের এই ফরোয়ার্ড। আর ফ্রান্সে পা রাখতেই খোলস ছেড়ে বের হন তিনি। লিওঁ’র জার্সিতে লিগ ওয়ান, কুপ ডি ফ্রান্স এবং ইউরোপা লিগ মিলিয়ে মাত্র ২১ ম্যাচে ৮টি গোল এবং ৮টি অ্যাসিস্ট করে পুরো ফুটবল দুনিয়ার নজর কাড়েন এনড্রিক।

লিঁও’র এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সই মূলত কোচ কার্লো আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে এনড্রিকের টিকিট নিশ্চিত করে দেয়। অথচ এর আগে আনচেলত্তির কোনো পরিকল্পনাতেই তিনি ছিলেন না। গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে মাত্র ১৪ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়েই ২টি অ্যাসিস্ট করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন এই তরুণ।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বমঞ্চে অভিষেক হতে যাওয়া এনড্রিক কিন্তু এবার একা নন। আনচেলত্তির ঘোষিত ২৬ জনের এই দলে এনড্রিক ছাড়াও আরও ১০ জন খেলোয়াড় আছেন, যারা এর আগে কখনো বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পা রাখেননি। এই তালিকায় রয়েছেন, গ্যাব্রিয়েল মাগালেস, ডগলাস সান্তোস, রজার ইবানেজ, লিও পেরেইরা, ওয়েসলি, দানিলো, ইগর থিয়াগো, ম্যাথিউস কুনহা, লুইজ হেনরিক এবং রায়ান। অভিজ্ঞ আর তারুণ্যের এক অদ্ভুত মিশ্রণ ঘটিয়েই এবার আমেরিকায় রাজত্ব করতে চাইছে সেলেসাওরা।

একই সাক্ষাৎকারে কাফু রিয়াল মাদ্রিদের মহাতারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেছেন। রিয়ালের হয়ে মাঠ মাতালেও ব্রাজিলের জার্সিতে এখনো চেনা ছন্দে দেখা যায়নি ভিনিকে। এ প্রসঙ্গে কাফু বলেন, ভিনিসিয়ুস একটা দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছে। সবচেয়ে জরুরি হলো ও যেন খেলাটা উপভোগ করে। ও যদি মানসিকভাবে ফুরফুরে ও খুশি থাকে, তবে ব্রাজিল দলকে ও একাই টেনে নিয়ে যেতে পারবে।
দলের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপরও পূর্ণ আস্থা রাখছেন এই কিংবদন্তি। কাফুর মতে, কোচ কে বা কোন দেশের, সেটা বড় কথা নয়; ব্রাজিলের জার্সিতে ষষ্ঠ তারকা যুক্ত হওয়াই আসল লক্ষ্য। আনচেলত্তি একজন চরম অভিজ্ঞ কোচ, যিনি ভালো করেই জানেন এই ধরণের বড় টুর্নামেন্টে কীভাবে চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নিতে হয়। তিনি ব্রাজিলিয়ানদের মুখে হাসি ফোটাবেন বলেই আমার বিশ্বাস।
নেইমারের চোট কাটিয়ে ফেরার স্বস্তির খবরের মাঝেই এনড্রিক ও ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে কাফুর এই আত্মবিশ্বাস কোটি কোটি ব্রাজিল ভক্তের হেক্সা জয়ের স্বপ্নকে আরও রঙিন করে তুলল!
