স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের কানে তালা লাগানো সিটি বাজানো আর চেলসি সমর্থকদের দুয়োধ্বনির মাঝেই ধীরপায়ে এবং নিথর মুখে টানেলের দিকে হেঁটে গেলেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।
দলের কোচ জনি ইভানস সান্ত্বনা দেয়ার মতো দুটি কথা বলতে এসেছিলেন ঠিকই, তবে সেদিকে ফিরেও তাকাননি এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকার ক্যারিয়ারে অর্জনের খাতা ভারী হলেও, শনিবার রাতে যখন কোচ মাইকেল ক্যারিকের দলের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য একজন সিনিয়র পারফর্মারকে বড্ড প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই উল্টো ডুবিয়ে দিলেন মার্তিনেজ!

ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমার্ধে চার-চারটি সহজ সুযোগ নষ্ট না হলে গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মরগান রজার্স চেলসিকে এগিয়ে নেওয়ার পরও লাল-ডেভিলদের ঘুরে দাঁড়ানোর পূর্ণ সম্ভাবনা ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই মাত্র ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ব্যবধানে যেন পুরো ম্যাচটাই নষ্ট করে দিলেন মার্তিনেজ।
পেনাল্টি বক্সে কর্নার কিকের সময় প্রতিপক্ষের ওয়েসলি ফোফানাকে কনুই দিয়ে আঘাত করে বসে থাকেন তিনি। ভিএআর প্রযুক্তিতে ভিডিও দেখে রেফারি পিটার ব্যাঙ্কস সরাসরি লাল কার্ড ও পেনাল্টি দেন চেলসিকে। ফলে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে নিদারুণ হারের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইউনাইটেড।
এমন আত্মঘাতী ভুলের পর ইউনাইটেডের সাবেক তারকাদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন মার্তিনেজ। বিবিসির বিশেষজ্ঞ ও সাবেক লিভারপুল ডিফেন্ডার স্টিফেন ওয়ার্নক বলেন, ১-০ তে পিছিয়ে থেকেও ইউনাইটেড কিন্তু খেলায় ছিল। কিন্তু ১০ জন হয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ ওখানেই শেষ। মার্তিনেজ একের পর এক ভুল করে দলকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।

আরও কড়া সুর টিএনটি স্পোর্টসের বিশ্লেষক জো কোলের গলার। তিনি সরাসরি বলে দিয়েছেন, ইউনাইটেডের জার্সিতে অপরাধের জায়গায় মার্তিনেজকে বড্ড বেশি দেখা যাচ্ছে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে তার দিন বোধহয় শেষ হয়ে এসেছে। সাবেক ইংল্যান্ড মিডফিল্ডার ড্যানি মারফি তো বলেই বসেছেন, মার্তিনেজ এখন দলের জন্য একটা বড় বোঝা! তার মাথা এখন ঠিক নেই, তাকে দিয়ে আর চলবে না।
এই হারের ফলে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচে জয়হীন রইল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, যা ১৯৮৮-৮৯ মৌসুমের পর ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে রেকর্ড! রেলিগেশন জোনে নেমে যাওয়ার ঠিক দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে এখন প্রহর গুনছে দলটি। সামনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার মুখোমুখি হওয়ার আগে কোচ ক্যারিক কিছুটা ইতিবাচক পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত পেলেও, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মার্তিনেজের এমন উদাসীন ও বেপরোয়া আচরণ এখন ক্লাবের আকাশে নতুন দুর্যোগের কালো মেঘ তৈরি করেছে।
