করোনা বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ষাটোর্ধদের মধ্য দিয়ে রোববার থেকে শুরু হচ্ছে টিকার বুস্টার ডোজ কার্যক্রম। তবে আপাতত সীমিত পরিসরে এই কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা জানান তিনি। ডা. মাঈনুল জানান, ট্রায়াল হিসেবে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরে বয়স্কদের দেওয়া হবে।
তবে দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার কতদিন পর বুস্টার ডোজ নেয়া হবে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে যে টিকা দেয়া হয়েছিলো, সেটিই তৃতীয় ডোজ হিসেবে দেয়া হবে কি-না তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় বিস্তারিত বলা হতে পারে।
ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে খুব বড় করে বুস্টার ডোজ কার্যক্রম শুরু হবে না। যে কোনো টিকার ক্ষেত্রেই শুরুতে সীমিত আকারে শুরু করতে হয়। কিছুদিন পর্যবেক্ষণের পর বড় আকারে দেয়া শুরু হয়। বুস্টার ডোজের ক্ষেত্রেও তেমনটিই হতে যাচ্ছে।
মঈনুল আহসান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে যারা সক্ষম, তাদের দিয়ে বুস্টার ডোজের কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে অবশ্যই বয়স্কদের আনা হবে। তবে বয়স্কদের ক্ষেত্রে কোমরবিড কন্ডিশন বিবেচনায় রাখায় হবে।
প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বুস্টার ডোজ দেয়ার প্রস্তুতি আছে। প্রাথমিকভাবে খুব সীমিত আকারে শুরু হবে। পরে ব্যাপক আকারে শুরু হয়ে যাবে। বর্তমানে টিকার যে সরবরাহ রয়েছে, তাকে কোনো ঘাটতি হবে না।
ঢাকা সিভিল সার্জন বলেন, বুস্টার ডোজের ঘোষণা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। একটি হলো সক্ষমতা এবং টিকার পর্যাপ্ত সরবরাহ। প্রথমে একটি ডোজ দিয়ে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়া হয় দ্বিতীয় ডোজ। এবার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে।
করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নেয়া যারা শেষ করেছেন তাদেরকেই একটি নির্দিষ্ট সময় পর তৃতীয় ডোজ নিতে হবে এবং এটিকেই বুস্টার ডোজ বলা হচ্ছে। জানা গেছে, যাঁদের দুই ডোজ নেওয়ার ৯ মাস থেকে এক বছর হয়েছে, তাঁরাই বুস্টার ডোজ নিতে পারবেন।
দেশের প্রায় সাত কোটি মানুষকে করোনার প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেয়া শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০ ভাগ মানুষকে দুই ডোজ করে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন: করোনা শনাক্তের হার একের নিচে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাথে করোনা টিকা থেকে সৃষ্ট সুরক্ষা কমে আসায় উন্নত দেশগুলো আগেই বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করেছে। এখন করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আসার পর বাংলাদেশেও বুস্টার ডোজ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
