নিখোঁজের পর অভিনেত্রীর লাশ উদ্ধার। এরপর থেকে বিনোদনপাড়াসহ দেশে আলোচনার ঝড় বইছে ঢাকাই সিনেমার নায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুকে নিয়ে। এর আগে সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ব্রিজের কাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরই মধ্যে হত্যায় জড়িত থাকায় স্বামী নোবেল ও স্বামীর বন্ধু ফরহাদকে আটকের পর পুলিশে দিয়েছে র্যাব।
এদিকে হত্যার ঘটনা জানাজানির পর থেকে সিনেমাপ্রেমীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল জন্মেছে নায়িকা শিমুকে নিয়ে। অনেকের মনেই প্রশ্ন, কে এই চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু?

বরিশালের মেয়ে শিমুর বড়ো পর্দায় অভিষেক হয় ১৯৯৮ সালে। প্রথম সিনেমা ‘বর্তমান’। ছবিটির পরিচালক ছিলেন কাজী হায়াৎ। ওই ছবিতে শিমু অভিনয় করেছিলেন মান্না, মৌসুমী, ডিপজল প্রমুখের সঙ্গে।
এরপর ছয় বছরে অভিনয় করেছেন ২৩টিরও বেশি সিনেমায়। তিনি অভিনয় করেছেন রিয়াজ, অমিত হাসান, বাপ্পারাজ, জাহিদ হাসান, মোশারফ করিম, শাকিব খানসহ অনেক গুণী ও জনপ্রিয় অভিনেতাদের বিপরীতে।
সবশেষ তাকে দেখা গেছে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জামাই শ্বশুর’ সিনেমায়। ফলে এই সময়ের দর্শকদের কাছে তিনি ততোটা পরিচিত নন।
তবে, গত কয়েক বছর ধরে শিমু নাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিনয় করেছেন প্রায় ৫০টি নাটকে। সম্প্রতি আলোচিত নাটক ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ এ অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি কাজ করেছেন প্রযোজক হিসেবেও। তার নিজের প্রোডাকশন হাউজ ছিল। মাঝে মধ্যে পরিচালনাও করতেন এই নায়িকা।

খুনের শিকার এই নায়িকা বাংলাদেশের অনেক গুণী পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- প্রয়াত চাষী নজরুল ইসলাম, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, দেওয়ান নজরুল, এ জে রানা, শরিফুদ্দিন খান দীপু, ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম, স্বপন চৌধুরী, এনায়েত করিম, শবনম পারভীন।
আরও পড়ুন: অভিনেত্রী শিমুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার
এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে বাদ পড়া ১৮৪ জন সদস্যদের একজন ছিলেন শিমু। ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলনে তিনি ছিলেন বেশ সক্রিয়। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে শিমু রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকার বাসায় থাকতেন।
একাত্তর/এসি
