রুশ-ইউক্রেন উত্তেজনায় ইউক্রেনকে সামরিক জোট ন্যাটোর বাইরে রাখার বিষয়ে রাশিয়া দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানালো ওয়াশিংটন। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ন্যাটোতে যোগদান করতে পারে ইউক্রেন, এমন আশঙ্কা থেকেই দেশোটির সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় এক লাখ সেনাসদস্য মোতায়েন করে রেখেছে প্রতিবেশী দেশ রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যেকোনো মুহূর্তে রুশ সেনারা দেশটিতে আক্রমণ করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে মস্কো বলছে, ইউক্রেনে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়। এর আগে অবশ্য রাশিয়া পরিষ্কার করেই বলেছে যে, ইউক্রেনকে কখনোই সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দিতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মস্কো লিখিতভাবে চায়। এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়নের সাবেক এই প্রদেশে ন্যাটোর সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হবে না; এমন প্রতিশ্রুতিও চায় রাশিয়া।
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ফোনালাপের আগে-পরে বিভিন্ন সময় মস্কো এই দাবি সামনে এনেছে। অবশ্য বাইডেন প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাশিয়ার এই দাবিগুলো কার্যকর হতে পারে না।
অবশেষে রাশিয়ার এই দাবির বিষয়ে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। একইসঙ্গে ইউক্রেন সংকট নিরসনে রাশিয়ার জন্য কূটনৈতিক পথও খোলা রাখার কথা জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
ব্লিংকেন বলেছেন, আমরা ইউক্রেনে বলপ্রয়োগের ধরণ সম্পর্কে পারস্পরিক স্বচ্ছতার ব্যবস্থার সম্ভাবনার কথা বলেছি, সেই সঙ্গে ইউরোপে সামরিক মহড়া এবং কৌশলের বিষয়ে আস্থা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথাও বলেছি। আমরা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাকে শক্তিশালী করতে এবং সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি দ্রুত ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া প্রস্তুত করতে কাজ করছি।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ওয়াশিংটন এবং মস্কো এখনও ঐক্যমত খুঁজে পেতে পারে এবং এমনকি ইউরোপে ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোতে অগ্রগতি আসতে পারে।
আরও পড়ুন: একদিনে শনাক্ত আরও ৩৫ লাখ, মৃত্যু ছাড়ালো ১০ হাজার
মস্কোর নিরাপত্তা বিষয়ক দাবির মধ্যে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণমুখী নীতির অবসান অন্যতম। বিশেষ করে ইউক্রেন ও জর্জিয়াসহ পূর্ব ইউরোপ থেকে ন্যাটো সেনাদের সরিয়ে নেওয়া। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবিগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে রাশিয়াকে ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করার দাবি করেছে।
একইসঙ্গে এর পরিবর্তে সামরিক মহড়া ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মস্কোর সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে।
একাত্তর/এসি
