বাড়ির পথে পদ্মা পার হতেই দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের ঈদ আনন্দ শেষ।
মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে রোববার যাত্রীর চাপ ছিলো সর্বোচ্চ। ভোগান্তিও ছিলো কয়েকগুণ।
ঘাট পর্যন্ত বাস যেতে না দেয়ায় কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয় মানুষকে। ঘাটে পৌঁছানোর পর ফেরি সংকটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে যাত্রীদের।
দৃশ্যপটটা এমন- পথে পথে যেনো শরনার্থীর ঢল। ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে যে যার মতো ছুটছে। বাবার কাঁধে সন্তানের নির্বাক চাহনি। অসহনীয় গরমে মলিন সব মুখ।
যুদ্ধাবস্থাকেও হার মানানো এমন পরিস্থিতি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঈদযাত্রার। সবার একই গন্তব্য মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাট।
কিন্তু ঘাটে পৌঁছানোর কমপক্ষে পাঁচ কিলোমিটার আগে সব বাস থামিয়ে দেয় পুলিশ। বাধ্য হয়ে বাকিটা পথ হেঁটেই যেতে হয় যাত্রীদের।
ঘাটে পৌঁছানোর পর অন্যরকম লড়াই। পদ্মা পার হবার অপেক্ষায় তখন হাজারো মানুষ। লঞ্চ, স্পিডবোট, ট্রলার বা ফেরি কোথাও পা ফেলার সুযোগ নেই। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলা।
গেলো কয়েকদিনের মতো এদিনও মাওয়া প্রান্তে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বাইকাররা। ঘন্টার পর অপেক্ষাতেও ফেরি পাননি তারা। ফেরি স্বল্পতার জন্য ক্ষোভ জানান তারা।
আরও পড়ুন: চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ মঙ্গলবার
দুপুর বারোটার ফেরি চলাচলের গতি বৃদ্ধি পায়। ফলে ঘাটে মোটরসাইকেলের জট ও ঘরমুখো মানুষের চাপ কমে আসে।
এতো এতো কষ্ট। কিন্তু, লঞ্চ কিংবা ফেরিতে চড়তে পারলেই বাড়ি ফেরার আনন্দে সব ভুলে যাওয়া। কষ্ট ভুলিয়ে দিচ্ছিলো নদীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা স্বপ্নের পদ্মা সেতুটাও।
যেটি চালু হলেই ঘুচে যাবে পদ্মার এপাড়-ওপাড়ের ব্যবধান। সব কিছু ঠিক থাকলে হয়তো পদ্মা সেতুর ওপর দিয়েই আগামী ঈদুল ফিতরে বাড়ি ফিরবে মানুষ।
একাত্তর/আরবিএস
