ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বেলারুশে সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (৭ জানুয়ারি) দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন। এরিমধ্যে রুশ সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন করেছেন প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো।
নতুন করে বেলারুশে রুশ সেনা এবং সরঞ্জাম পাঠানোয় আবারো শঙ্কা তৈরি হয়েছে, মিত্রদেশের ভূমি ব্যবহার করে ইউক্রেনের উত্তর সীমান্ত দিয়ে হামলা শুরু করতে পারে রাশিয়া। মিনস্ক জানায়, লুকাশেঙ্কো এবং রুশ বাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, যৌথ মহড়ার মাধ্যমে অখণ্ডতা রক্ষায় প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থক বেলারুশ। তবে ইউক্রেনে হামলায় তারা মস্কোর সঙ্গে অংশ নেবে না বলে কয়েক দফা জানিয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে বেলারুশ থেকে সেনা পাঠিয়েই কিয়েভ ঘেরাও করেছিল মস্কো। তবে তখন কিয়েভ দখলের পরিবর্তে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে মনোযোগ সরিয়ে নেয় রাশিয়া। এখন আবার বেলারুশে সেনা বৃদ্ধি করায় নতুন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে কিয়েভের শাসকদের মধ্যে।
মস্কো জানিয়েছে, রুশ সেনারা পরিকল্পনা মাফিক তাদের দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত। এর আগে বেলারুশ জানিয়েছিল যে, রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চলেছে তারা। ফলে প্রতিবেশী দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র আসতে চলেছে বেলারুশে।
দুই দেশের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতই এর প্রধান লক্ষ্য। রাশিয়া থেকে সেনা সদস্য, অস্ত্র এবং বিশেষ প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আসা অব্যাহত থাকবে। যদিও বেলারুশের সরকার একাধিকবার জানিয়েছে যে, তারা ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধে যোগ দেবে না।
আরও পড়ুন: বহু নাটকীয়তার পর প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ম্যাকার্থি
তবে এমন কথায় বিশ্বাস রাখতে পারছে না ইউক্রেনের শাসকগোষ্ঠী। এর আগেও সামরিক মহড়ার কথা বলে বেলারুশে গিয়েছিল রুশ সেনারা। কিন্তু সেই সেনারাই পড়ে ইউক্রেনে আক্রমণ করে। কিয়েভের অভিযোগ, রাশিয়া বেলারুশের আকাশসীমা ব্যবহার করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা অব্যাহত রেখেছে।
বেলারুশ থেকে নতুন করে আক্রমণ হলে এই যুদ্ধে নতুন একটি ফ্রন্ট চালু হবে। এরইমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে যুদ্ধে। লুকাশেঙ্কো বরাবরই পশ্চিমাদের এ যুদ্ধের জন্য দায়ী করেছেন। বেলারুশ মনে করে, রাশিয়ার শর্ত মেনে নিয়ে ইউক্রেনই পারে এই যুদ্ধ শেষ করতে।
একাত্তর/এসজে
