নানা নাটকীয়তা ও উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বছরে গড়ালো ইউক্রেন যুদ্ধ। এমন সময় রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দশম প্যাকেজ ঘোষণা করলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর এই প্যাকেজ ঘোষণা করল ইইউ।
ইইউ’র বর্তমান সভাপতি (রাষ্ট্র) সুইডেনের পক্ষ থেকে শুক্রবার রাতে এক টুইটার বার্তায় এই প্যাকেজ ঘোষণা করে বলা হয়, ইউক্রেনকে চলমান যুদ্ধে জয়ী করার জন্য ইইউর সবগুলো সদস্যদেশ একসঙ্গে মিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
টুইট বার্তায় আরও বলা হয়, ইউক্রেন ও ইউক্রেনের জনগণের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ। যতদিন প্রয়োজন আমরা ইউক্রেনকে সমর্থন দিয়ে যাবো।
ইরানের পার্সটুডে বলছে, ইইউর এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য রাশিয়ায় রপ্তানি না করা এবং যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইউক্রেন যুদ্ধে কোনো না কোনোভাবে সাহায্য করছে সেসব প্রতিষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ। ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা বলতে ওই যুদ্ধের রাশিয়ার পক্ষে প্রচারণা চালানো এবং রাশিয়াকে যুদ্ধে ব্যবহার করার জন্য ড্রোন সরবরাহ বোঝানো হয়েছে।
মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ইইউর পক্ষ থেকে রুশবিরোধী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। তবে এই নিষেধাজ্ঞার সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছে খোদ ইউরোপের রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকরা।
আইরিশ আইনপ্রণেতা মাইক ওয়ালেন্স বলেন, এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অত্যন্ত হতাশাজক বছর। আমরা মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য অধিকতর উপায়ে একটি আজ্ঞাবহ ভূমিকা পালন করছি। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থ রক্ষা করছে না তেমনি তা ইউরোপের জনগণের স্বার্থেরও অনুকূলে নয়।
আরও পড়ুন: তুরস্ক-সিরিয়ায় প্রাণহানি ৫০ হাজার ছাড়ালো
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় ইউরোপের সাধারণ নাগরিকদের ওপর ব্যয়ের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেবে।
এরইমধ্যে জ্বালানি সংকটে ইউরোপে ব্যাপক মাত্রায় মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে এবং জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগামী সংকট আরও বাড়বে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
একাত্তর/আরবিএস
