বৃহস্পতিবার ইউক্রেনজুড়ে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। এতে এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হামলায় রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযোগ ইউক্রেনের জাতীয় পাওয়ার গ্রিড থেকে আবারও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। গেলো এক বছরে এনিয়ে একাধিকবার বিচ্ছিন্ন হলো বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সংযোগ, ফলে পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (এনারোঅ্যাটম) জানায়, হামলায় ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এটিকে বর্তমানে ডিজেল জেনারেটর দিয়ে সচল রাখা হয়েছে। তবে তাদের কাছে মাত্র ১০ দিনের জ্বালানি রয়েছে।
দেশটির ন্যাশনাল গ্রিড অপারেটর ইউক্রেনারগো জানায়, সতর্কতা হিসাবে হামলা চলাকালীন সমস্ত অঞ্চলে শক্তি সরবরাহ সীমিত করা হয়েছিল এবং হামলার ফলে কমপক্ষে তিনটি দীর্ঘ পাওয়ার কাট হবে।
এদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলেছে, বৃহস্পতিবার রাশিয়া ৮১টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং আটটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যা প্রধানত শক্তি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালান হয়েছে। ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে ছয়টি হাইপারসনিক কিনজাল ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আক্রমণগুলো প্রধানত জ্বালানি ও শক্তি স্থাপনা লক্ষ্য করে চালান হচ্ছে। রাজধানী কিয়েভ, ওডেসার কৃষ্ণ সাগর বন্দর এবং ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের অর্ধ ডজনেরও বেশি অঞ্চলে হামলা হয়েছে।

তবে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা অন্তত ৩৪টি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি শাহেদ আত্মঘাতী ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।
দেশটির বিমান বাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহানাত বলেন, এটি একটি বড় আক্রমণ এবং প্রথমবারের মতো এতগুলো বিভিন্ন ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র... শত্রুরা ছয়টি কিনজাল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। এমনটা আগে কখনো ঘটেনি।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেছেন যে, বৃহস্পতিবার রাজধানীতে হামলায় কমপক্ষে দুই জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের স্টাফের প্রধান আন্দ্রেই ইয়ারমাক টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে লিখেছেন, সন্ত্রাসীরা আমাদের ক্ষমতা ছাড়া করতে সবকিছু করছে... তারা শান্তিপূর্ণ মানুষের বিরুদ্ধে তাদের সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
একাত্তর/আরবিএস
