যেভাবে বন্ধু থেকে শত্রু ইমরান ও পাকিস্তান সেনাবাহিনী

আপডেট : ২৭ মে ২০২৩, ১২:২৬ পিএম

বহু বছর ধরে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিশ্বাস ছিল, ইমরান খানের মধ্যে তারা দেশের জন্য একজন ত্রাণকর্তা খুঁজে পেয়েছেন। তবে ক্ষমতা থেকে যাওয়ার মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি তাদের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছেন, এবং ইমরানের ক্রোধ থেকে নিজেদের বাঁচাতে সামরিক বাহিনী সমস্ত শক্তি ব্যবহার করছে।

ইমরান খান এবং তার দল দেশব্যাপী ক্র্যাকডাউনের মুখোমুখি হওয়ায় প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে পাকিস্তান। দেশটিতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মের সাথে যোগ হয়েছে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা। 

অথচ এর মধ্যেও পুরো দেশ চিন্তিত ইমরান খানের পরবর্তী পদক্ষেপ ও তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা নিয়ে। 

এক বছরেরও বেশি সময় আগে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করার পর, ইমরানের সমর্থকরা বলেছিলেন তিনি তাদের ‘রেড লাইন’ এবং তাকে গ্রেপ্তার করা হলে দেশ জ্বলবে। বেশ কয়েকটি ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, আধাসামরিক বাহিনীর একটি দল গত ৯ মে ঠিক সেটিই করে ফেলে।

পাকিস্তান পুরোপুরি জ্বলেনি, তবে খানের সমর্থকরা লড়াই সামরিক ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর ও পাকিস্তানের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান জেনারেল হেডকোয়ার্টারে (জিএইচকিউ) অনুপ্রবেশ করা হয় এবং বিক্ষোভকারীরা সামরিক লোগোসহ বিভিন্ন সাইনবোর্ড পদদলিত করে।

image


এই বিক্ষোভে একটি বিপ্লবের সমস্ত চিহ্ন থাকলেও, এটি তা ছিল না। ইমরান খানকে প্রথমে সেনাবাহিনী পছন্দ করে, তারপর তাকে দূরে সরিয়ে দেয়, আর এখন তার সমর্থকরা তাদের মধ্যে হিসেবনিকেশ চুকিয়ে দিচ্ছেন। 

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া দেশটির প্রতিটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রায় একটি রীতির মতো।

দেশটির প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল, তার কন্যা বেনজির ভুট্টোকে দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং কিশোর আত্মঘাতী বোমারু দ্বারা তার হত্যাকাণ্ডের সম্পূর্ণ তদন্ত হয়নি। 

নওয়াজ শরীফকে বরখাস্ত করে জেলে পাঠিয়ে নির্বাসিত করার পর এখন আবার নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। তিনি তার ছোট ভাই শাহবাজের মাধ্যমে প্রক্সি দিয়ে শাসন করেন, কিন্তু এখনও দেশে ফিরতে পারেন না।

গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক আগে ইমরান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে তার রাজনৈতিক দল ভাঙার চেষ্টাকারী ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত করেন। এর আগে তিনি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়াকে বিশ্বাসঘাতক বলেছিলেন, যিনি তাকে ক্ষমতায় আনতে এবং টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিলেন। 

অতীতে অনেক পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ সেনাবাহিনীর বদনাম করেছেন, কিন্তু পাকিস্তানিরা একজন কোর কমান্ডারের বাড়িতে আগুন, মহিলা বিক্ষোভকারীদের জিএইচকিউ-এর গেটে হট্টগোল এবং সজ্জিত সৈন্যদের মূর্তি ভেঙে ফেলার ছবি দেখতে অভ্যস্ত নয়।

image


অতীতে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে। 

আলী ওয়াজির নামের নির্বাচিত অ্যাসেম্বলি সদস্য যিনি তালেবানদের প্রতি সেনাবাহিনীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছিলেন, তিনি দুই বছর জেলে ছিলেন এবং এমনকি তাকে জাতীয় পরিষদে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বেলুচিস্তান থেকে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে গুম করা হয়েছে এবং পাকিস্তানের কোনো আদালত বা মূলধারার রাজনৈতিক দল তাদের দুর্দশার বিষয়ে আগ্রহী নয়।

তাহলে ডজন ডজন অভিযোগের সম্মুখীন হওয়া সত্ত্বেও ইমরান খান কীভাবে এখনও স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন?

আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, তিনি সেনাবাহিনীর মধ্যেই মেরুকরণ করে ফেলেছেন। সেনাবাহিনীর মধ্যে এমন কিছু অফিসার এবং তাদের পরিবার রয়েছে যারা তাকে দেখে মুগ্ধ।

বিচার বিভাগ তার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছে। লক-আপে একদিন কাটানোর পর, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বিচারক তাকে আদালতে ডেকে ‘আপনাকে দেখে খুশি হয়েছি’ বলেন এবং তাকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে রাখেন। পরদিন আরেক বিচারক তাকে ছেড়ে দেন।

ইমরান খান পাকিস্তানের একটি বিশাল নির্বাচনী এলাকায় জয়লাভ করেন, যা তার সাথে আসার আগে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের ঘৃণা করত। তার পরিচ্ছন্ন শাসন ও ন্যায়বিচারের বার্তায় জনপ্রিয় আবেদন রয়েছে- যদিও খান যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতি বেড়ে যায় এবং তিনি তার অনেক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কারাগারে পাঠান।

কিন্তু ক্ষমতা থেকে অপসারণ তার সমর্থকদের উৎসাহিত করেছে, যাদের মধ্যে অনেক নারী এবং তরুণ রয়েছেন যারা আগে কখনো ভোট দেননি এবং কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নেননি।

ইমরানের মতো তারাও একসময় সেনাবাহিনীকে ভালোবাসতেন। তবে এখন তারা সবকিছুর জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেন।

image


সেনা নেতৃত্বের উপর খানের বারবার আক্রমণ সত্ত্বেও, অনেকে বিশ্বাস করেন যে তিনি আসলেই সেনাবাহিনীর ক্ষমতা কমাতে চান না, তিনি চান জেনারেলরা তাকে এবং তার দলকে আগের মতো ভালোবাসুক এবং সমর্থন করুক।

আরও পড়ুন: জার্মানির মন্দা নিয়ে শোৎলজ-পুতিন আলোচনার পরিকল্পনা

ইমরান খান হয়তো পাকিস্তানে একটি নতুন ধরনের পপুলিস্ট রাজনীতির সূচনা করেছেন, কিন্তু সেনাবাহিনী তাকে নামানোর জন্য সেই একই কৌশল ব্যবহার করছে, যা তার তার পূর্বসূরিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিল।

সেনাবাহিনী গণগ্রেপ্তারের মাধ্যমে ইমরানের দল পিটিআইকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে এবং সেনানিবাসে হামলায় জড়িত কর্মী ও নেতাদের সামরিক বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সর্বদা বেসামরিক লোকদের সাথে মুখোমুখি হওয়ার সময় নিজের ইচ্ছামত কাজ করেছে। ইমরান খান তার কর্মীদের দাসত্বের জীবন থেকে মৃত্যু বেছে নিতে বলেছেন। এই অচলাবস্থায়, সাধারণ পাকিস্তানিরাই সবসময় ভুগেছে এবং এখনো ভুগছে।


একাত্তর/এসজে

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ আগুনে কমপক্ষে ১৪ জন নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে 'পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস'...
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও তেহরান-ওয়াশিংটন সংঘাত মেটাতে পাকিস্তান ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের মধ্যে এক অত্যন্ত ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও...
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলা তীব্র উত্তেজনা এবং নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকির পটভূমিতে আঞ্চলিক শান্তি ফেরাতে জরুরি সফরে তেহরান পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম...
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে শাহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে...
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি পুরোপুরি তার নিজের সিদ্ধান্তের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তবে এ বিষয়ে ভারত ইতিবাচক ও...
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত উত্তোলনের সুযোগ চালু হওয়ার প্রথম দিনেই তা তোলার জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ১৮ হাজার আমানতকারী। এসব আবেদনের বিপরীতে আমানতকারীরা সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা...
গঠনমূলক সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে স্বাগত জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিএনপি সবসময় মধ্যমপন্থী রাজনীতির পথ ধরে এগিয়ে চলে। সমালোচনার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন,...
শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে জাতীয় কারিকুলামে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্তিসহ নানা মুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার। এ কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বাংলাদেশ...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর