অভিবাসন নীতি নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় নেদারল্যান্ডসে জোট সরকারের পতন ঘটেছে। এর ফলে আসছে শরতে দেশটিতে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে পুরো মন্ত্রিসভাসহ পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে অভিবাসন নীতি নিয়ে জোটের অংশীদারদের ভিন্নমত রয়েছে। আজ দুর্ভাগ্যবশত আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, সেই মতপার্থক্যগুলো অনতিক্রম্য হয়ে উঠেছে। তাই আমি রাজার কাছে পুরো মন্ত্রিসভার পদত্যাগপত্র জমা দেব।
নেদারল্যান্ডসে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবাহ সীমিত করার জন্য মার্ক রুটের রক্ষণশীল ভিভিডি পার্টির চাপের ফলে এই সংকটের সূত্রপাত হয়। তার চার দলীয় সরকারী জোটের দুটি দল এটিকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এই সপ্তাহে রুটে শরণার্থী শিশুদের প্রবেশ সীমিত করার প্রস্তাবের জন্য সমর্থন দাবি করলে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। শরণার্থী পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হওয়ার আগে দুই বছর অপেক্ষা করার প্রস্তাবও দেয়া হয়।
তবে জুনিয়র কোয়ালিশন অংশীদার খ্রিস্টান ইউনিয়ন এবং সামাজিকভাবে উদারপন্থী ডি৬৬ এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
এমতাবস্থায় ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ নামে পরিচিত সমঝোতা প্রস্তাব, যা শুধুমাত্র অভিবাসীদের অত্যধিক উচ্চ প্রবাহের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সূত্রপাত করবে, সরকারকে বাঁচানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।
নতুন নির্বাচনের পরে একটি নতুন প্রশাসন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত রুটের জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসাবে থাকবে। ডাচ রাজনীতিতে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত কয়েকমাস সময় নেয়।
জাতীয় নির্বাচন কমিটির বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএনপি জানিয়েছে, মধ্য নভেম্বরের আগে নির্বাচন হবে না।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনকে নিষিদ্ধ ক্লাস্টার বোমা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
দেশটিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন নীতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তবে রুটে বলেছিলেন যে এটি ইউক্রেনের প্রতি নেদারল্যান্ডসের সমর্থনকে প্রভাবিত করবে না।
নেদারল্যান্ডসে ইতোমধ্যে ইউরোপের সবচেয়ে কঠিন অভিবাসন নীতিগুলোর মধ্যে একটি রয়েছে। কিন্তু ডানপন্থী দলগুলোর চাপে, রুটে কয়েক মাস ধরে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবাহ আরও কমানোর উপায় খোঁজার চেষ্টা করছিলেন।
একাত্তর/এসজে
