ভারতের উপকূলে আবারও চীনা গবেষণা জাহাজ দেখা গেছে। সপ্তাহান্তে এটি দেখা গেছে বলে জানিয়েছে এক ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতীয় উপকূলে চীনা গবেষণা জাহাজ দেখা গেলো।
এতে চীনের সম্ভাব্য সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে দেশটির উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে হিমালয় সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা নিয়ে এশিয়ার এই দুই পরাশক্তির মধ্যে বিদ্বেষভাব দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে দেশ দুইটির মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল।
ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা, ভূ-গোয়েন্দা গবেষক এবং জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, জিয়াং ইয়াং হং ০১ নামের একটি চীনা জাহাজ সপ্তাহান্তে ভারতের পূর্ব উপকূলে দেখা গেছে।
এর আগে, গত মাসে মালদ্বীপের একটি বন্দরে একইভাবে একটি চীনা জাহাজকে নোঙ্গর ফেলতে দেখা যায়। দুইটি জাহাজই চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মালিকানাধীন।
চীন বলছে, জাহাজগুলো শুধু শান্তিপূর্ণভাবে সমুদ্রস্তরের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে যেকোনো ধরণের উদ্বেগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছে দেশটি।
তবে ভারতীয় কমকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, চীনা জাহাজগুলো বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি এমন সব তথ্যও সংগ্রহ করতে পারে, যা সাবমেরিন মোতায়েনের জন্য চীনের সামরিক বাহিনীর কাজে লাগতে পারে।
ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক দ্য ইন্টেল ল্যাবের গবেষক ড্যামিয়েন সাইমন রোববার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে করা একটি পোস্টে বলেছেন, সর্বশেষ চীনা জাহাজটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে প্রবেশ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেছেন, চীনা জাহাজটি ভারতীয় উপকূলীয় ভাইজাগে শহরের দক্ষিণ-পূর্বে কাজ করছিল এবং এটি ‘সক্রিয় নজরদারির’ অধীনে ছিল।
ভারতীয় নৌবাহিনী এবং চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
ইউরোপীয় চার দেশের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি