রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ক্রোকাস সিটি হলে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও এ ঘটনার জন্য উল্টো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকেই দুষছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পুতিন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ হামলার ঘটনায় ইউক্রেনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে শনিবার রাতে এক ভিডিও ভাষণে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। খবর ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, এটা স্পষ্ট যে পুতিন এবং অন্যান্য ঠগরা অন্য কাউকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছে। তাদের পদ্ধতি সবসময় একই। আমরা এর আগেও দেখেছি, ভবন ধ্বংসের পাশাপাশি গুলি চলেছে এবং বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে তারা সবসময় এ জন্য অন্য কাউকে দোষারোপ করেছে।
এ হামলার জন্য পুতিনকে দোষারোপ করায় রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, জেলেনস্কিই একমাত্র পাগল রাষ্ট্রপ্রধান যিনি সন্ত্রাসী হামলার জন্য খোদ রাশিয়াকেই দায়ী করছেন।

এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় বিকেলে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভিডিও ভাষণে পুতিন বলেন, ক্রোকাস সিটি হলে সন্ত্রাসী হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী চারজনসহ এখন পর্যন্ত ১১ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তারা ইউক্রেনের দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে।
ইউক্রেনের নাম উল্লেখ না করে পুতিন আরও বলেন, এখন প্রধান বিষয় হলো এই রক্তপাতের পেছনে যারা রয়েছে তাদের প্রতিরোধ করা। এই অপরাধের পেছনে থাকা সমস্ত অপরাধী, সংগঠক এবং মাস্টারমাইন্ডকে শাস্তি দেয়া হবে। আমি আবার বলছি, যারা সন্ত্রাসীদের পেছনে দাঁড়িয়েছে, যারা এই নৃশংসতা চালিয়েছে আমরা তাদের চিহ্নিত করবো এবং শাস্তি দেবো।
জবাবে জেলেনস্কি বলেন, পুতিনের উচিত ইউক্রেন আক্রমণ না করে নিজ নিজ লোকদেরকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ব্যবহার করা।
তিনি আরও বলেন, তারা (রুশ সেনাবাহিনী) আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য, ইউক্রেনের মাটিতে তাদের কয়েক হাজার সন্ত্রাসবাদীকে এনেছে। অথচ তারা তাদের নিজেদের দেশের অভ্যন্তরে কী ঘটছে তা নিয়ে চিন্তা করে না।
ক্রোকাস সিটি হলে হামলার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টা নীরব ছিলেন পুতিন- এ প্রশ্ন তুলে জেলেনস্কি বলেন, কীভাবে এই ঘটনার সাথে ইউক্রেনকে জড়ানো যায় পুতিন তা নিয়ে ভাবছিলেন। এটি সম্পূর্ণরূপে অনুমানযোগ্য।
শুক্রবার রাতে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর ক্রোকাস সিটি কমপ্লেক্সে ভয়াবহ হামলা চালায় চার বন্দুকধারী। হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার ঘটনায় এরইমধ্যে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। রাশিয়ার নিরাপত্তাপ্রধান প্রেসিডেন্ট পুতিনকে জানিয়েছেন, আটকদের মধ্যে চারজন সরাসরি হামলায় যুক্ত ছিলো।
রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) বলেছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীদের মধ্যে চারজন হামলার পর ইউক্রেনে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলো এবং সেখানে তাদের "যোগাযোগ" ছিলো। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংস্থাটি।
মস্কো হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৩, আটক ১১
ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের ওপর আবারও হামলা, নিহত ১৯