চার হামলাকারীকে বাকি জীবন কাটাতে হবে কবরের আযাবে

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০৬:৪৭ পিএম

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কাছে ক্রোকাস সিটি হলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সাথে সরাসরি জড়িত চার সন্দেহভাজনকে সারাজীবন আরও ভয়াবহ জীবন কাটাতে হবে বলে জানিয়েছেন, দেশটির কর্মকর্তা। এই চারজনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার চলছে, যাতে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

ক্রোকাস সিটি হলের হামলায় সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ১৪০ জন নিহত এবং আরও ১৮২ জন আহত হওয়ার রেকর্ড নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সপ্তাহ পরেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৯৫ জন। তাদের নামের তালিকা নিহত বা আহতদের তালিকাতেও নেই। 

রুশ তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, কালাশনিকভ স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ব্যবহার করে চার সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ শতাধিক রাউন্ড গুলি পাওয়া গেছে। রক গ্রুপ পিকনিকের কনসার্ট শুরুর কিছুক্ষণ আগে ওই সন্ত্রাসীরা গুলি ছোঁড়ে এবং বিস্ফোরণ ঘটায়। 

তখন হলটিতে ৬ হাজার ২০০ মানুষ অবস্থান করছিলেন। গুলির শব্দে হল রুমে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। যে যেদিকে পারে ছুটতে থাকে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই গুলি করেছে। এরপর তারা সেখানে মলভেট ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

ক্রোকাস সিটি হলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে কনসার্ট হলের ভেতরে ও বাইরে নির্বিচারে গুলি চালানো চার সন্দেহভাজনও রয়েছে, যাদের সবাইকে তাজিকিস্তানের নাগরিক বলে চিহ্নিত করেছে রাশিয়া।

এই চারজন কনসার্ট হলে গুলি চালিয়ে মস্কোর দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ৩৪০ কিলোমিটার দূরে ব্রায়ানস্ক অঞ্চল দিয়ে ইউক্রেন সীমান্ত পেরনোর চেষ্টায় ছিলো। আটকের পর পরই বিশেষ প্রহরায় তাদেরকে মস্কো নিয়ে আসা হয়। গেলো রোববারই এই চার জনকে আদালতে তোলা হয়েছে বিচার শুরুর জন্য।

চার জনকেই রাশিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। সন্দেহভাজন চারজনের পরিচয়ও প্রকাশ করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, এই চার জনই জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দোষ স্বীকার করেছে এবং হামলায় অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে।

চার তাজিক নাগরিককে গ্রেপ্তারের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সে সঙ্গে তাদের কীভাবে আদালতে তোলা হয়, তারই কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়ে নেট দুনিয়াতে ঘুরছে। এসব ভিডিওতে দেখা গেছে, চার জনেই অবস্থাই বেশ খারাপ, মারধরের কারণে কারো মুখমণ্ডল স্বাভাবিক নেই।

ফলে গ্রেপ্তারের পর তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অমানুষিকভাবে একজনের একটি কান কেটে নেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আরেক জনের একটি চোখ উপড়ে নেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। অপর আরেকজনের চোখের নিচে কালশিটে পড়ে গেছে।

তবে সন্দেহভাজন এই চার জনের জন্য আরও খারাপ সময় অপেক্ষা করছে। মস্কোর পাবলিক মনিটরিং কমিটির নির্বাহ সচিব অ্যালেক্সি ম্যালনিকভ সতর্ক করে বলেছেন, বহু রুশ প্রাণকে হত্যার শাস্তি হিসাবে অভিযুক্ত চারজনকে জীবনের বাকি দিনগুলো কবরের আযাবের মধ্যে কাটাতে হবে। 

ম্যালনিকভ বলেন, তাদের জীবনের বাকি অংশ একটি কফিনের মতো পরিবেশে কাটাতে হবে। তাদেরকে কারাগারে এমন ধরনের সেলে রাখা হবে, যার আয়তন চার বাই ছয় বর্গমিটার। এই রুমের মধ্যে তারা শুধুমাত্র হাঁটু বাঁকিয়ে ঘুরতে পারবেন এবং সেক্ষেত্রে হাত পেছনে দিকে বেধে রাখতে হবে। 

তিনি আরও জানান, মানুষ হত্যার শাস্তি তাদেরকে পেতেই হবে। তারা যাদেরকে হত্যা করেছে তারা সবাই ছিলো নিরীহ রুশ নাগরিক। স্বজন হারানো প্রতিটি পরিবার যে বেদনা বহন করছে, তা এই চার অভিযুক্তকে কিছুটা হলেও বোঝাতে হবে। জীবনের বাকি দিনগুলোতে তারা একাই থাকবেন। 

আরবিএস
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর এমন অভিযোগ কার্যত একটি ‘প্রকৃত যুদ্ধের সূচনা’ হতে পারে।
ইউরোপে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে ক্রেমলিনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে শনিবার মস্কোয় রুশ...
দীর্ঘ সাড়ে চার বছরের রক্তাক্ত সংঘাতের পর রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে নতুন আশার ইঙ্গিত দিয়েছে। রাশিয়ার দূর প্রাচ্যে আয়োজিত এক অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দেয়ার সময় রুশ...
ইউক্রেনকে দূরপাল্লা ক্ষেপণাস্ত্রের স্পর্শকাতর ব্লুপ্রিন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এবার সরাসরি যুক্তরাজ্যকে চরম হুঁশিয়ারি দিল ক্রেমলিন! মস্কোর কড়া বার্তা, ইউক্রেনের জন্য ড্রোন তৈরি করা ব্রিটিশ...
জাতীয় সংসদে আরও ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছে এবং একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ ২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ এবং সম্পত্তি হস্তান্তরে আজীবন ভোগদখলের অধিকারকে আইনি স্বীকৃতি দিতে জাতীয় সংসদে আজ রোববার তিনটি বিল পাস হয়েছে।
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর