প্রাণভয়ে এদিক থেকে ওদিকে ছুটছেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজার মানুষ। কোথাও মিলছে না নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এবার রাফাহতে স্থল অভিযানের আগে সেখান থেকে ফিলিস্তিনিদের সরে যেতে বলেছে ইসরাইল। আর এতেই বেড়েছে বিপত্তি। সব জায়গাই যেখানে সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র সেখানে কোথায় গিয়ে দু’দণ্ড স্বস্তির নিশ্বাস নিবেন গাজাবাসী?
উত্তর থেকে দক্ষিণ আর দক্ষিণ থেকে উত্তরে প্রাণভয়ে শুধু ছুটে চলা। তবুও নিরাপত্তার নেই কোন আশা। আট মাস ধরে ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এবার সেখানকার সবশেষ নিরাপদ আশ্রয়স্থল রাফাহ সীমান্ত, যেখানে ইসরাইল সরকারই ছুটে যেতে বাধ্য করেছিলো লাখো ফিলিস্তিনিকে, সেখানেই স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেল আবিব। সরে যেতে বলেছে সব সেখানে আশ্রয় নেয়া সব বেসামরিক মানুষজনকে। এতে চরম বিপদে গাজাবাসী।
রাফাহতের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা প্রতিদিনই নিরাপত্তার খোঁজে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় যাচ্ছি। এভাবে কতোদিন ভাগ্য আমাদের সহায় হবে আর আমরা প্রাণে বেঁচে থাকবো কে জানে!

শুধু রাফাহ সীমান্ত নয়, উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবির ঘিরেও হামলা অব্যাহত থাকায় সেখান থেকেও দলে দলে ফিলিস্তিনি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে ঘুরছে পথে পথে। কেউ হাঁটছে নিরুদ্দেশ আর কারো কারো কপালে জুটেছে ঠেলাগাড়ি।
নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়েছে এমনই এক নারী বলেন, হামলার সময় আমরা একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম। বোমার আঘাতে স্কুলভবনটির ছাদ আমাদের মাথার ওপর ধসে পড়ে। শুধু তাই নয়, তাঁবু আশ্রয় নেয়া অনেক মানুষ মারা যায়। তাহলে কোন জায়গাকে নিরাপদ বলবো?
জাবালিয়া আর রাফাহ থেকে সরে এসে অনেকেই এখন তাঁবু গাড়ছে দেইর আল বালাহয়। সেখানেও নেই নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ।
আরেক নারী তার সন্তানদের নিয়ে ঘুরছেন পথে পথে। তিনি জানান, সন্তান নিয়ে এখানে আসার সময় ইসরাইলি বাহিনীর বন্দুক হামলার মুখে পড়েছিলেন তারা। অনেকেই তাদের সামনেই মারা যায়।

তিনি বলেন, আমাদের পরিস্থিতি এতোই খারাপ যা বলে বোঝানো সম্ভব না। যাওয়ার, থাকার কোন জায়গাই নেই বেশিরভাগ গাজাবাসীর।
ছুটে ছুটে ক্লান্ত যুদ্ধ বিধ্বস্ত অঞ্চলটির মানুষজন। তারপরও যুদ্ধবিরতির চুক্তির সব তৎপরতাই বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে কবে এই ইসরাইলি তাণ্ডব শেষ হবে তা ভেবে হতাশা আর উদ্বেগ বাড়ছেই।
ভারতে চতুর্থ দফার ভোট গ্রহণ চলছে