নিজ জন্মস্থান মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি। কয়েকদিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মাশহাদ শহরে ইমাম আলী আল-রেজার মাজারে সমাহিত করা হয় প্রয়াত এই প্রেসিডেন্টকে।
মৃত্যুর চারদিন পর বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বিমানে করে মাশহাদের নেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাইসির মরদেহ নিয়ে আসা হয়। তাকে শেষ বিদায় জানাতে সেখানে জড়ো হন লাখো মানুষ।
পরে বিমানবন্দর থেকে সুসজ্জিত একটি ট্রাকে করে রাইসি কফিন নিয়ে যাওয়া হয় ইমাম রেজার মাজারে। এসময় শহরের রাস্তায় রাইসির বড় বড় ছবি, কালো পতাকা এবং শিয়াদের নানা প্রতীক টানিয়ে জনপ্রিয় এ নেতার জন্য শোক প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ।

সমাহিত করার আগে মাশহাদে রাইসির জানাজা পড়ানো হয়। ইরানিদের পাশাপাশি রাইসির জানাজায় বিভিন্ন দেশের নেতা, রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরাও অংশ নেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ খোরাসান প্রদেশের বিরজান্দে নেয়া হয় রাইসির মরদেহ। সেখানেও তাকে শ্রদ্ধা জানান সাধারণ মানুষ।
গেলো রোববার রাতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ইরানের প্রেসিডেন্ট। ওই সময় তার সঙ্গে ওই কপ্টারে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানসহ আরও আটজন।

প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ যে ৯ জন এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বুধবার রাজধানী তেহরানে তাদের সবার জানাজা পড়িয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।
ইউনিভার্সিটি অব তেহরানে অনুষ্ঠিত ওই জানাজায় অংশ নেয় সর্বস্তরের মানুষ। এরপর আজাদি চত্বরের পথে একটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতেও যোগ নেন অগণিত শোকার্ত জনতা।
এছাড়া মঙ্গলবার ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে নিহত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজারো শোকার্ত মানুষ জড়ো হন। পরে তাবরিজ থেকে রাইসি ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ানের মরদেহ ইরানের মধ্যাঞ্চলের ঐতিহাসিক কোম শহরে নেওয়া হয়। সেখানেও তাদের জানাজা হয়।

রোববার আজারবাইজানের সীমান্তের কাছে দুটি বাঁধ উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট রাইসি। এরপর হেলিকপ্টারে চড়ে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের তাবরিজ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি ও তার সহযাত্রীরা। পথিমধ্যে পাহাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের বহনকারী হেলিকপ্টারটি।
সোমবার সকালে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের পাহাড়ি ও তুষারাবৃত এলাকায় ইরানি প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায় অনুসন্ধানী দল।
দুর্ঘটনায় নিহত হন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান পূর্ব আজারবাইজানের গভর্নর মালেক রহমাতি, পূর্ব আজারবাইজানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আলী আলে-হাশেম, প্রেসিডেন্ট গার্ডের প্রধান মেহেদি মুসাভি। প্রাণ হারিয়েছেন হেলিকপ্টারের পাইলট, কো-পাইলটও।
বিধ্বস্ত হেলকপ্টারটি খুঁজে পায় ইরানি ড্রোনই