বুদ্ধদেবের শেষযাত্রায় মানুষের ঢল

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৪, ০৬:১১ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মরদেহ শেষবারের মতো নেয়া হয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য দপ্তর দীনেশ মজুমদার ভবনে। সেখান সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার মরদেহ শিয়ালদহের এনআরএস হাসপাতালে নেয়া হবে। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ও এবিপি নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে সিপিএমের সদর দপ্তর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের দলীয় কার্যালয় থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মরদেহ নেয়া হয় দীনেশ মজুমদার ভবনে। বুদ্ধদেব ছিলেন ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য শাখার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। সভাপতি ছিলেন তার বন্ধু দীনেশ মজুমদার। তার নামেই ওই ভবনটি নামাঙ্কিত। 

আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে দীনেশ মজুমদার ভবনে মরদেহ নেয়ার পথে রাস্তার দুধারে মানুষের ঢল নামে। এসময় কিছুক্ষণের জন্য জনস্রোতে থমকে যায় শববাহী গাড়িটি। 

পরে বুদ্ধদেবের মরদেহ দীনেশ মজুমদার ভবনে নেয়া হলে সেখানে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশসহ ভারতের একাধিক রাজ্যের বাম নেতাকর্মীরা। এছাড়াও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় কংগ্রেসসহ একাধিক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারাও তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।  

সিপিএমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে চারটায় পর্যন্ত বুদ্ধদেবের মরদেহ দীনেশ মজুমদার ভবনে শায়িত থাকবে সেখানে। পরে মিছিল করে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শিয়ালদহের এনআরএস হাসপাতালে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ সেখানেই দান করা হবে। 

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (৮০) বৃহস্পতিবার সকাল আটটা ২০ মিনিটের দিকে কলকাতার বালিগঞ্জে পাম অ্যাভিনিউয়ের নিজ বাড়িতে মারা যান।

দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন তিনি। এছাড়াও ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিলেন সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী। 

ছেলে সুচেতন ভট্টচার্য জানান, বাবা গত তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। বুধবার বিকেলে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। 

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

১৯৪৪ সালে পহেলা মার্চ কলকাতায় এক বাঙালি পরিবারে জন্ম নেন বুদ্ধদেব। তিনি ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত ভট্টচার্যের ভাতিজা ছিলেন। আজীবন বামপন্থি আদর্শের বিশ্বাসী এই বরেণ্য রাজনৈতিক সমানতালে সাহিত্যচর্চাও চালিয়ে গেছেন।

১৯৪৪ সালে পহেলা মার্চ কলকাতায় এক বাঙালি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নেন বুদ্ধদেব। তিনি ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত ভট্টচার্যের ভাতিজা ছিলেন। আজীবন বামপন্থি আদর্শের বিশ্বাসী এই বরেণ্য রাজনৈতিক সমানতালে সাহিত্যচর্চাও চালিয়ে গেছে। 

শৈলিন্দ্র সরকার বিদ্যালয় থেকে স্কুল জীবন শুরু ও শেষের পর প্রেসিডেন্সি মহাবিদ্যালয় (বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর একটি সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন বুদ্ধদেব। 

স্কুলে শিক্ষকতা করার সময় বামপন্থি সংগঠন সিপিএম সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ১৯৬৬ সালে সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ নেন। পরে ১৯৭২ সালে সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে প্রথমবার তিনি সিপিএম মনোনয়নে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেন। কলকাতার কাশিপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্র থেকে সিপিএমের প্রার্থী হয়ে জয় লাভ করে প্রথমবার বিধায়ক হিসাবে নির্বাচিত হন বুদ্ধদেব।

২০০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১১ বছর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে কলকাতার যাদবপুর কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে ক্রমেই দূরে সরে যেতে থাকেন তিনি। জ্যোতি বসুর মন্ত্রিসভায় ১৯৯৯ সালে উপ মুখ্যমন্ত্রীও হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

২০১৯ সালে দলের হয়ে অসুস্থ থাকা অবস্থায় শেষ জনসভা করেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যে পূর্ণ দিবস ছুটি ঘোষণা করেন। 

মমতা বলেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুতে সরকারের তরফ থেকে গান স্যালুট দেওয়া হবে। মরদেহ বিধানসভায় নিয়ে যেতে বলেছি। যদি পিস ওয়ার্ল্ডে না রেখে রবীন্দ্রসদনের নন্দনে রাখতে চায় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। অসুস্থ থাকা অবস্থায় বুদ্ধ দাকে আমি বারবার দেখতে গেছি। তাই সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক, এটাই সব সময় কামনা করেছি। তিনি অসুস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু শ্বাসকষ্ট ছিল এবং সেটা বেড়ে গিয়েছে। তাই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আমি ওনার  স্ত্রী এবং সন্তানের সঙ্গে আছি। রাজ্যের জন্য ওনার প্রচুর অবদান রয়েছে। একটা মানুষ মরে গেলে তার জীবন শেষ হয়ে যায় না তাকে মানুষ মনে রাখে।

আরবিএস
রাজধানী কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোর মফস্বল শহর থেকে গ্রামের দুর্গা পুজাগুলো কার্যত থিম মন্ডপের আড়ম্বর দেখা যায়। রাজ্যটির সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সকলে পুজার রীতি মেনে অঞ্জলিতে অংশ না নিলেও...
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবারও প্রকাশ্যে এলো চরম উত্তেজনার দৃশ্য। হুগলিতে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষের গাড়িতে ডিম ও পাথর ছুড়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে একদল...
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই নাটকীয় রাজনৈতিক মোড়! সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার...
আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানোর একটি অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও এবং তাঁর ধর্মীয় সম্ভাষণকে কেন্দ্র করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের উৎসাহিত...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের সব থেকে বেশি ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিডিয়া যদি...
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা শেষে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতেই পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...
নিজ নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও মহড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দেশব্যাপী তোলপাড় ও সমালোচনার মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক...
সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়ায় কূটনৈতিক তথ্য আদান-প্রদানে মারাত্মক ঘাটতি থাকার কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর