মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট মনোনীত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ইসরাইলকে ঘৃণা করেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রথম প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, তিনি এখনও হোয়াইট হাউজে থাকলে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ ‘কখনও শুরুই হতো না।’ খবর আল-মনিটর’র।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭ টা) এ নির্বাচনী বিতর্কে মুখোমুখি হন তারা। ফিলাডেলফিয়ার ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন সেন্টারে ৯০ মিনিটের এ বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মার্কিন গণমাধ্যম এবিসি নিউজ। বিতর্কের সঞ্চালক ডেভিড মুইর ও লিনসে ডেভিস।
বিতর্কের সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ডেমোক্র্যাটিক প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিস চলতি বছরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে জাতি হিসেবে ইসরাইলের অস্তিত্ব থাকবে না। ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘তিনি ইসরাইলকে ঘৃণা করেন। আমার বিশ্বাস, তিনি যদি প্রেসিডেন্ট হন, এখন থেকে ঠিক দুই বছরের মধ্যে ইসরাইলের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, হ্যারিস ‘আরব জনগণকে ঘৃণা করতেন’। এসময় রিপাবলিকান প্রার্থী দাবি করেন, তিনি হোয়াইট হাউজে থাকাকালীন মধ্যপ্রাচ্য তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিলো।
ট্রাম্পের এমন দাবি অস্বীকার করে কমলা বিতর্কে আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, ট্রাম্প ‘বাস্তবতা থেকে দূরে রয়েছেন এবং বিভ্রান্ত করার’ চেষ্টা করছেন।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোর গলায় বলেন, ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।’ তবে, অবিলম্বে এই যুদ্ধের অবসান হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। একটি যুদ্ধবিরতির ওপর গুরুত্বারোপ করে হ্যারিস বলেন, ‘আমাদের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা দরকার।’
এসময় প্রতিদ্বন্দীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘সবাই খুব ভালো করেই জানেন যে, তিনি স্বৈরশাসকদের প্রশংসা করেন এবং নিজেও একজন স্বৈরশাসক হতে চান।’
এর আগেও বৃহস্পতিবার লাস ভেগাসে রিপাবলিকান পার্টির ইহুদিদের এক সমাবেশে ‘কমলা হ্যারিস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে গেলে ইসরাইলের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। ইহুদি ভোটারদের প্রলুব্ধ করার জন্য এই ধরনের মরিয়া প্রচারণাকে নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে ট্রাম্পকে নিয়ে। তার মধ্যপ্রাচ্য নীতির কারণে ইহুদি ভোটারদের আকৃষ্ট করতে না পারার হতাশা থেকে ট্রাম্প এমন কাণ্ড করছেন বলে মত বিশ্লেষকদের।
ঘুষের মামলায় ট্রাম্পের সাজা ঘোষণা ভোটের পর