ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি। বুধবার কিয়েভ সফরকালে এক বৈঠকে জেলেনস্কিকে নতুন সহায়তারও আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
ওই বৈঠকে যুদ্ধে ইউক্রেনের চূড়ান্ত লক্ষ্য ও তা অর্জনে সহায়তার ক্ষেত্র নিয়ে ত্রিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে। তবে, পশ্চিমা অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা পরিচালনার বিষয়ে অনুমতি সংক্রান্ত আলোচনার কোনও অগ্রগতি হয়নি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনের জন্য আরও সামরিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন ব্লিঙ্কেন ও ল্যামি। ব্লিঙ্কেনের ঘোষিত সহায়তার আর্থিক মূল্য প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলার। আর প্রায় ৬০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৭৮ কোটি ডলার) দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ল্যামি।
আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘দূরপাল্লার গোলাবারুদের পাশাপাশি অনেক কিছু নিয়েই আলোচনা হয়েছে। ওয়াশিংটনে ফিরেই আমি প্রেসিডেন্টকে সবকিছু ব্রিফ করব।’
দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা চালানোর জন্য মিত্রদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে আসছেন জেলেনস্কি। এর ফলে, মস্কোর আক্রমণের সক্ষমতা কমে আসবে বলে তার বিশ্বাস।
হামলায় ইউক্রেন মার্কিন এটিএসিএমএস, ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডোসহ পশ্চিমাদের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে চাচ্ছেন। কিন্তু এসব দূরপাল্লার অস্ত্র ইউক্রেন শুধু তার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতেই ব্যবহার করতে পারবে, এমন শর্ত আরোপ করা রয়েছে মিত্রদের পক্ষ থেকে।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ল্যামি বলেছেন, ‘সবকিছুই আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধে জয়লাভ করতে ইউক্রেনের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জামের মতো ইস্যু নিয়েও পর্যালোচনা হয়েছে।’ আলোচনা আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে বলেও জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
অবশ্য তার এই মন্তব্য ইউক্রেনের জন্য হতাশাজনক, কেননা তারা দ্রুতই পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপ চাচ্ছিল।
সংবাদ সম্মেলনের আগে এক প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার হামলা চালাতে মার্কিন ও ব্রিটিশ মিত্রদের সবুজ সংকেত পাওয়া নির্ভর করবে তাদের ‘ইতিবাচক মানসিকতা’র ওপর। ‘আমরা অন্তত কিছু দৃঢ় সিদ্ধান্ত আশা করতে পারি এবং আমাদের জন্য এখন এটি খুব প্রয়োজন’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে জেলেনস্কি লিখেছেন, আলোচনা বিস্তারিত ও অর্থবহ ছিল। প্রধান সব বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, ইউক্রেনের যুক্তিতে কর্ণপাত করা হয়েছে। আলোচনায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য পরিকল্পিত যুদ্ধকৌশল প্রণয়ন ও সম্মুখ সারিতে দূরপাল্লার অস্ত্র সরবরাহের মতো ইস্যু ছিলো বলে জানিয়েছেন তিনি।
পুতিনের চাপে গলে যাবেন ট্রাম্প: কমলা 