সিরিয়াতে আসাদ পরিবারের ৫৪ বছরের স্বৈরচারী শাসেনর অবসান ঘটেছে। বিদ্রোহীরা রাজধানী দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে রাশিয়াতে আশ্রয় নিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। এতে নেতৃত্ব দিয়ে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শাম।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির প্রধান আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি বিজয়ের পর দেশটির রাজধানী দামেস্কের উমায়েদ মসজিদে প্রথম ভাষণ দিয়েছেন তিনি। দামেস্কের কেন্দ্রস্থলের উমায়াদ মসজিদে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এত দিন সিরিয়াকে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এখন সবাই স্বাধীন। সবাই মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে পারছে। খবর বিবিসি।
জোলানি বলেন, এ জয় সব সিরিয়ানদের জয়। আসাদ সরকার হাজারো সাধারণ নিরীহ মানুষকে অবৈধভাবে সাজা দিয়েছে। আমরা বৈধভাবে লড়াই করে বিজয় অর্জন করেছি। এ জয়ের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জুলানি বলেন, সৃষ্টিকর্তা কখনো নিরাশ করেন না। এ জয় সব সিরিয়াবাসীর জয়।

বিদ্রোহীদের এই নেতা বলেন, বাশার আল-আসাদের পলায়ন সমগ্র মুসলিম জাতির জন্যই বিজয়। এটা পুরো অঞ্চলের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। সিরিয়ায় ২০১১ সাল থেকে চলা গৃহযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন আল-জোলানি। তিনি বলেন, বাশার আল-আসাদ ‘সাম্প্রদায়িকতা ও দুর্নীতি’ ছড়িয়েছিলেন।
ইসলামে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে যে, কেয়ামতের আগে নবী ঈসা উমাইয়া মসজিদেই অবতরণ করবেন। সেই মসজিদে দাঁড়িয়ে জোলানি বলেন, সারাবিশ্বে কত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে? কত মানুষ তাঁবুতে জীবন কাটিয়েছে? কতজন সমুদ্রে ডুবে মারা গেছে?
আল-জোলানি আরও বলেন, নতুন সিরিয়া গড়তে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যা মুসলিম জাতির জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে। এ সময় তিনি সবাইকে বিজয়ের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আল্লাহ আপনাদের ব্যর্থ হতে দেবেন না।

এর আগে, রাজধানী দামেস্কে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ১৩ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)। এই গোষ্ঠীর প্রধান জোলানি বলেন, নতুন সরকার গঠনের আগপর্যন্ত সরকারের সব বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন আসাদ সরকারেরই প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ গাজি আল জালালি।
আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি হায়াত তাহরির আল-শাম গঠনের আগে আল-কায়েদার সিরিয়ান শাখা আল-নুসরা ফ্রন্টের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের পর তিনি আল-কায়েদার সঙ্গ ঝেড়ে ফেলেন। তবে এইচটিএস এখনো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তুরস্কের কাছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচিত।
আসাদের পতন রাশিয়ার মর্যাদায় বড় আঘাত!