বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৫ বছর আমরা ভোট দিতে পারিনি, আমরা ভোট দিতে চাই। ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের ছেলেরা, আমাদের ছাত্ররা আমাদের একটি সুযোগ করে দিয়েছে আমরা সেটা নষ্ট করতে চাই না।
রোববার বিকেলে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
সব শ্রেণি পেশার মানুষ এক হন সম্প্রীতির বন্ধনে। মানবিক দেশ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি সবার স্লোগানে। তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না পঞ্চগড়ের সাকোয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে। ছোট-বড় মিছিল নিয়ে সভাস্থলে ছুটে আসেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

যোগ দেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও। জনসভায় যোগ দিতেই বরণ করা হয় অনুষ্ঠানের মধ্যমণি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। মঞ্চে উঠে সাধারণ মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন তিনি। পরে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভোটের কথা বলা হলে কেউ কেউ ভালোভাবে নেয় না। অনেকে সংস্কারের কথা বলছে- তবে এ সংস্কারের কথা বিএনপি বহু আগেই বলে দিয়েছে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেয়ার দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।
দেশকে বিভক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, পতিত স্বৈরাচাররা এখনও সক্রিয়; তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।
শেখ হাসিনাকে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে সপরিবারে পালাতে হয়েছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিস্টদের পরিণতি এমনই হয়। ১৫ বছরের বেশি সময় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে জোর করে নির্যাতন করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল।
তরুণরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সুযোগ এনে দিয়েছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্র করছে ভারতে বসে, তারা একটা প্রচারণা চালাচ্ছে সংখ্যালঘুদের ওপর নাকি বাংলাদেশে নির্যাতন নিপীড়ন হচ্ছে- এসব বলে বিভ্রান্ত করে বিপদে ফেলার চক্রান্ত করা হচ্ছে তাই এসব মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি বলেন, সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে দুটো চয়েজ দিয়েছিল। দুটোর মধ্যে একটাকে বেছে নিবেন। একটা হচ্ছে প্রচুর দিক থেকে জনগণ আসছে। উত্তাল সমুদ্রের মতো, তাদের দ্বারা কি পৃষ্ট হবেন, নাকি জান বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যাবেন। ‘আমি পালাই না, আমি ভয় পাই না’ বলা সেই মহিলা জীবন বাঁচানোর জন্য নেতাকর্মীসহ সবাইকে বিপদে ফেলে পালিয়ে গেছে। এই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের পরিণতি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত পনেরো বছর কেউ ভোট দিতে পেরেছেন, পারেন নাই। আমরা সব জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই।দেশকে গড়ে তুলতে চাই। শেখ হাসিনা নির্বাচনের নাম করে ক্ষমতায় যায়। পরে গুম করে খুন, করে হাসিনা জোর করে ক্ষমতায় ছিলো। এটাই হচ্ছে ফ্যাসিবাদী সরকার।
সমাবেশে বিএনপি নির্বাহী কমিটির পল্লি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদের সভাপতিত্বে, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন ও বিএনপি রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব বক্তব্য রাখেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সরকার যেভাবে নির্বাচনের তারিখ দিয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয়: সমমনা জোট সমন্বয়ক