আশ্রিতাকে ধর্ষণের চেষ্টার কারণেই খুন হন হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া। বুধবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, চারদিন আগেই সাইফুর রহমান তার বাসায় আশ্রয় দিয়েছিলেন নাজিম-রূপা দম্পতিকে। পরে রূপাকে যৌন নিপীড়ন করার পাশাপাশি নাজিমকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে শুরু করেন সাইফুর। ডিএমপি বলছে, ঘটনার দিনও ধর্ষণের চেষ্টা করলে তাকে খুন করে পালিয়ে যায় ওই দম্পতি।
১০ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর উত্তরার উত্তরখান থানা এলাকার পুরান পাড়ার একটি বাসা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়াকে। এরপর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
এ ঘটনায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ছোট ভাই। নাজিম ও রূপা নামের এক দম্পতিকে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানিয়েছে, চার দিন আগে রেল স্টেশনে পরিচয় হওয়ার পর তাদের সঙ্গে করে বাসায় এনে আশ্রয় দেন সাইফুর। নাজিমের অভিযোগ, এরপর থেকেই রূপাকে বিভিন্নভাবে শ্লীলতাহানির করার চেষ্টা করেন সাইফুর রহমান।
ডিএমপির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মহিদুল ইসলাম বলেন, টাকা-পয়সা রাখার ব্যাগ হারিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে অসহায় অবস্থায় পড়েন এক দম্পতি। তাদের দুজনেরই বয়স ২৫ বছরের কম। তাদের অসহায়ত্ব দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন হাবীবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুর রহমান ভূঁইয়া। বাসায় চাকরি দেয়ার কথা বলে তাদের নিয়ে যান রাজধানীর উত্তরখানের ভাড়া বাসায়। তবে সাইফুর রহমান ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
মহিদুল ইসলাম বলেন, সুযোগ পেলেই নাজিম হোসেনকে বাইরে পাঠিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করতেন সাইফুর রহমান। সবশেষে রোববার (৯ মার্চ) রাতে ও তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তার স্বামী প্রতিবাদ করেন। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সোমবার রাত ২টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সাইফুর রহমান উত্তরখান থানার পুরানপাড়া বাতান এলাকার একটি ফ্ল্যাটে খুন হন। ওই রাতে এক বেডে ছিলেন সাইফুর রহমান, নাজিম ও তার স্ত্রী। নাজিম ঘুমিয়ে পড়লে সাইফুর রহমান ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে নাজিমের ঘুম ভেঙে গেলে রান্নাঘর থেকে বটি এনে সাইফুর রহমানকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকে। আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। পরে পালিয়ে যায় ওই দম্পতি।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। নিহত সাইফুর রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রীর কোনও বিরোধ ছিল কিনা জানেত চাইলে মহিদুল ইসলাম বলেন, থাকতে পারে। তদন্তের জন্য তার স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তবে সে ধরনের কোনও তথ্য আমরা পায়নি।
ধর্ষণচেষ্টার কারণে ওই দম্পতি সাইফুর রহমানকে হত্যা করেছে, মামলাটি কোন পর্যায়ে যাবে। এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নিশ্চিতভাবে এটি হত্যা মামলা। আদালতে মামলাটি যখন ট্রায়াল হবে তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যে পরবর্তী সময়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে মঙ্গলবার ফরিদপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হলেন নাজিম হোসেন (২১) ও স্ত্রী (২৩)। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইলফোন, একটি চাবির রিং ও একটি ব্যাংকের ভিসা কার্ড উদ্ধার করা হয়।
এর আগে নিহতের ফ্ল্যাট থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো বটি, একটি ধারালো চাকু ও রক্ত মাখা জামা-কাপড় এবং বিছানার চাদর উদ্ধার করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে।
ধর্ষণ মামলার আইন সংশোধনে খসড়া প্রস্তুত: আসিফ নজরুল
মাগুরার শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি
সিলেটে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার