শতাধিক দেশের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের সময়সীমা আর পেছানো হবে না বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেছেন, ১ আগস্ট থেকেই কার্যকর হবে শুল্ক এবং এই সময় সময়সীমা আর পেছানো হবে।
ট্রাম্প বলেন, যেসব দেশকে চিঠি পাঠানো হয়েছে, তারা যেন বুঝে নেয় এটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। শুল্ক আরোপের বিষয়ে নতুন করে কোনও ছাড় বা সময় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
চিঠিতে ট্রাম্প আরও বলেছেন, যদি কোনও দেশ তাদের বাণিজ্য নীতি পরিবর্তনের প্রস্তুতি দেখায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই চিঠির বিষয়বস্তু পর্যালোচনার কথা ভাবতে পারে। সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে শুল্ক বাড়তে বা কমতে পারে।
চিঠিগুলোর মধ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের কাছে পাঠানো বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, দুই দেশের পণ্যে ২৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মালয়েশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশকে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।
চিঠিতে তিনি জানান, এই দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। লাওস ও কম্বোডিয়ার মতো কিছু দেশে অবশ্য হারের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। ট্রাম্প এই চিঠিগুলোর মাধ্যমে সতর্ক করেন, তার শুল্কের জবাবে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সেই সঙ্গে তিনি কপার (তামা) আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ওষুধ খাত নিয়েও খুব শিগগিরই ঘোষণা আসবে। তবে উৎপাদকদের তাদের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিতে এক থেকে দেড় বছর সময় দেয়া হবে। এই সময়ের পর তারা বিশাল হারে শুল্কের মুখে পড়বে। তা প্রায় ২০০ শতাংশের মতো।
ট্রাম্প জানান, বড় অঙ্কের রাজস্ব ১ আগস্ট থেকেই আসা শুরু হবে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, বছরের শেষে শুল্ক রাজস্ব ৩০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে তাদের শুল্ক হুমকির পরপরই নতুন চুক্তি সম্পাদনের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের চাপে রয়েছে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সঙ্গে চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আর চীনের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি শুল্ক কমাতে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।
