রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজা আয়মান মারা গেছে। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ফিমেল হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এফএইচডিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শরীরের 8৫ শতাংশ পোড়া নিয়ে বার্ন ইনস্টিটিউটে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলো মাইলস্টোনের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী তাসনিম আফরোজা আয়মান। তিনদিন ধরে বেঁচে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করছিলো ১০ বছর বয়সী আয়মান। তবে আজ সকালে নিভে গেলো প্রদীপটি।
আয়মান বড় হয়ে ডাক্তার হতে চেয়েছিলো। তবে, আইসিউতে সব ডাক্তারের আপ্রাণ চেষ্টা আর দেশবাসীর শুভকামনাও তাকে ধরে রাখতে পারলো না। উত্তরায় প্রথম জানাজা শেষে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নে তার মরদেহ নেয়া হয় দাফনের জন্য।

আয়শা আক্তার কানন আর ইসমাইল হোসেনের তিন মেয়ে নিয়ে উত্তরায় সুখের সংসার। সেদিনও সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য ইউনিফর্ম পরেছিলো তাসনিম আফরোজা আয়মান। মা সিঁথি করে চুলে চিরুনি করে দিয়েছিলেন সাজিয়ে দিয়েছিলেন টিফিন বক্সও। মায়ের থেকে বিদায় নিয়ে আইডি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে গাড়িতে করে স্কুলে পৌঁছে। স্কুল থেকে ফিরে ছোট বোন আয়না আর আয়রার সাথে খেলবে বলে গিয়েছিলো।

ক্লাস শেষে ছুটির পর প্রতিদিনের মতো প্রিয় দোলনায় ব্যাগ রেখে আবার গিয়েছিলো স্কুল বিল্ডিংয়ে। বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের আগুনের বলয় পুড়িয়ে দেয় তার ছোট শরীরের ৪৫ শতাংশ। এরপরও বিছানায় শুয়ে বলছিলো সেদিনের কথা।

আয়মানের ফুফু শিউলি বলছিলেন, আয়মান দাদির বড় প্রিয় ছিলো। প্রতিদিন দোলনায় দুলতো ছুটির পর। গাড়ি চালক তাই প্রথমেই আয়মানকে দোলনায় খুঁজতে যায় সেখানে, পায় শুধু ব্যাগ। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর মোবাইল থেকে আয়মান নিজেই ফোন করে দাদিকে। বলে, আমি পুড়ে গেছি দাদি!

খেলার আর হাসির বয়স, ছিলো স্বপ্ন দেখার সময়। কিন্তু আয়মানের জন্য ছিলো না আর কোনো আগামীকাল। বিমানের আকাশ ছুঁয়ে আসা আগুন নেমে এলো শিক্ষাঙ্গনে। এক মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেল আগামীর ভবিষ্যৎ শিশুরা। বেজে উঠলো অনন্ত ছুটির ঘণ্টা।

আয়মানের মামা শামীম আহমেদ ক্ষোভ নিয়ে বলছিলেন, আবাসিক এলাকায় কেনো প্রশিক্ষণ বিমান চলে? কেনো কেড়ে নেয়া হলো এতগুলো প্রাণ?
তিনি জানান, আয়মানের মা এখন পর্যন্ত এক ফোটা চোখের পানি ফেলেননি, শোকে পাথর। বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন।

আয়মানের জন্য ছোট বোন আয়রা আর আয়নার অপেক্ষার শেষ হয় না!
চলে গেলো দগ্ধ শিক্ষার্থী আয়মানও, মৃত্যু বেড়ে ৩২