এনআরসি আতঙ্কে কলকাতায় আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। রবিবার দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপল্লীর বাসিন্দা ৫৮ বছর বয়সী দিলীপ সাহার ঝুলন্ত মরদেহ তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হবে এমন আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গে প্রথম আত্মহত্যার ঘটনা এটি।
তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, সম্প্রতি বিজেপি শাসিত রাজ্য দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, গুজরাট এবং আসামে এনআরসি নিয়ে অভিযান শুরুর পর থেকে আতঙ্কে ভুগছিলেন দিলীপ সাহা। কলকাতার বাসা থেকে বেরোনোও এক প্রকার বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। শুধু টেলিভিশনে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে খবর দেখতেন সারাদিন।
আর সেই আতঙ্ক থেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন দিলীপ সাহা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে দিলীপ সাহার স্ত্রী আরতি সাহা ঘরের দরজা বন্ধ থাকায় বার বার ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। এরপর প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দিলীপ সাহার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
থানায় খবর দেওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দিলীপ সাহার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিলীপ সাহা ১৯৭২ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে কলকাতায় আসেন। পরিবারের দাবি, এনআরসি কার্যকর হতে পারে—এই আশঙ্কায় সম্প্রতি তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তার ভারতীয় ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ড ছিল। তবু তিনি ভাবতেন, তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
দিলীপ সাহা একটি ‘সুইসাইড নোট’ রেখে গেছেন বলে জানা গেলেও পুলিশ এখনো তা প্রকাশ করেনি। প্রতিবেশীদের অনেকে বলছেন, তিনি স্নায়ুজনিত সমস্যায় ভুগতেন ও মানসিকভাবে দুর্বল ছিলেন। কলকাতা পুলিশ দিলীপ সাহার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। ভোটার তালিকা সংশোধনের নাম করে তারা এনআরসির পথ প্রশস্ত করছে।
বিশ্বের ৯০ দেশে ভিসামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে চীনারা
ইয়েমেন উপকূলে নৌকাডুবিতে বহু অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু