বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠন করলে মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য সব ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীতে এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন। জনসভাটি স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জীবনমান উন্নয়ন তারেক রহমান বলেন, আমাদের সমাজে এক শ্রেণির মানুষ আছেন যাদের অবদান জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অনস্বীকার্য। তারা হলেন আমাদের মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরু। অথচ এই মানুষগুলোর অনেকেই বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাদের জন্য সম্মানজনক সরকারি সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও আঞ্চলিক উন্নয়ন নীলফামারীসহ উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ১২ তারিখের ভোটে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে আমাদের অন্যতম প্রধান কাজ হবে দ্রুততম সময়ে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলকে পুনরায় শস্য-শ্যামলা করে তোলা হবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে স্থানীয় ইপিজেডকে আরও বড় করা এবং নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
ভোটের অধিকার ও ষড়যন্ত্রের হুঁশিয়ারি নির্বাচনকে ‘দেশ গঠনের লড়াই’ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ বছর আন্দোলনের পর জনগণ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। তবে পলাতক স্বৈরাচারের সহযাত্রীরা এখনও দেশে থেকে ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, আমরা খবর পাচ্ছি একটি বিশেষ দল ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে, মা-বোনদের বিকাশ নম্বর নিচ্ছে এবং সংখ্যালঘুদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, যারা ভোটারদের ভয় দেখাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনগণের প্রতি আহ্বান তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছে এবং জেল-জুলুমের শিকার হয়েছে। সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় ১২ ফেব্রুয়ারি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। এই দেশ গড়ার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।
দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় আমেরিকা, অন্য পাল্লায় ভারত: মুফতি রেজাউল