বাংলাদেশের লাখ লাখ পোশাক শ্রমিক এবং কারখানা মালিকরা বৃহস্পতিবার একটি নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে ভোট দেবেন। তাদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার দেশের বৃহত্তম এই শিল্পকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে। উল্লেখ্য, মার্কিন শুল্ক (ট্যারিফ) এবং দেশীয় রাজনৈতিক ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে টানা ছয় মাস ধরে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হ্রাস পাচ্ছে। খবর রয়টার্স।
পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। দেশের মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে এবং জিডিপিতে এর অবদান ১০ শতাংশের বেশি। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, যাদের বেশিরভাগই নারী- যারা এই শিল্পকে সচল রাখছেন।
ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, শিল্প এখন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কারখানা মালিকরা দীর্ঘমেয়াদী নীতি-স্থিতিশীলতা, টেকসই মজুরি ব্যবস্থা, ব্যাংকিং খাতের পুনরুদ্ধার এবং জ্বালানির প্রতিযোগিতামূলক দাম নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।
দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী এই খাতের ওপর অর্থনীতির অতি-নির্ভরতা কমানোর অঙ্গীকার করেছে। জামায়াতে ইসলামী সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, আমরা চিরকাল একটি শিল্পের ওপর নির্ভর করতে পারি না। আমাদের ইশতেহারে চামড়া, পাট, ওষুধ এবং কৃষি-সংস্করণ খাতে রপ্তানি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও বড় বিপর্যয়: কারখানা মালিকদের মতে, মার্কিন শুল্ক এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে রপ্তানি কমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।
আলোচনার পর তা জুলাই মাসে ৩৫ শতাংশ এবং ১ আগস্ট থেকে ২০ শতাংশ করা হয়। সর্বশেষ গত সোমবার একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির অধীনে শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে বাংলাদেশকে তাদের বৃহত্তম বাজারে প্রবেশের জন্য মাত্র ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো।

নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র একটি কোটা পদ্ধতি চালু করবে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি পোশাক শুল্কমুক্ত সুবিধায় সেখানে প্রবেশ করতে পারবে। তবে এই কোটার পরিমাণ নির্ভর করবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কতটা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু কিনছে তার ওপর।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, এই শুল্ক একটি বিরাট বিপর্যয় ছিল। বাজারে কোনো স্থিতিশীলতা নেই, পরিস্থিতি অত্যন্ত অনিশ্চিত। ২০ বছরের ব্যবসায় এই প্রথম তিনি লোকসানের মুখ দেখেছেন জানিয়ে বলেন, কোভিডকালেও আমি শ্রমিকদের পূর্ণ বেতন দিয়েছি এবং লোকসান গুনতে হয়নি।
অস্থিরতার প্রভাব: বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দুজা চৌধুরী বলেন, ডিসেম্বরে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলাসহ বিভিন্ন অস্থিতিশীলতার খবরের কারণে অনেক ক্রেতা অর্ডার বাতিল করছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এর আগে কখনো এতটা খারাপ হয়নি। মার্কিন চুক্তিআমাদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।
২০২৪ সালে ২৩,০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করে এবং মজুরি পর্যালোচনার সময়কাল পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করে। মালিকদের দাবি, এতে তাদের ওপর চাপ বেড়েছে।
তবে বিজিএমইএ’র পরিচালক ও সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল সামাদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, শুল্কমুক্ত সুবিধার প্রস্তাব এবং একটি নির্বাচিত সরকার আসার সম্ভাবনা, সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থার উন্নতি হতে পারে।
ভোট জিতলে এককভাবে সরকার গঠন করবে বিএনপি