প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চলমান ইসরাইল সফরটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের বাণিজ্য ও উদ্ভাবন বিষয়ক বিশেষ দূত ফ্লুর হাসান-নাহুম এই সফরকে অত্যন্ত সংকটময় অথচ সম্ভাবনাময় সময়ের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি মনে করেন, গত দুই বছরের বৈশ্বিক পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলে দিয়েছে, যা নতুন ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতার পথ খুলে দিয়েছে।
হাসান-নাহুমের মতে, ভারত শুধু ইসরাইলের একটি বড় বাণিজ্যিক অংশীদারই নয়, বরং উদ্ভাবন এবং প্রবৃদ্ধির অভিন্ন স্বপ্ন দেখা এক বিশ্বস্ত বন্ধু। তিনি বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং প্রস্তাবিত 'ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর' এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই করিডোরটি ভারতকে ইসরাইলের মধ্য দিয়ে ইউরোপের সাথে যুক্ত করবে, যা বিশ্ব বাণিজ্য প্রবাহ এবং আঞ্চলিক সংযোগে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারত-ইসরাইল সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হলো প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার গভীর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব। ফ্লুর হাসান-নাহুম বলেন, এটি কেবল প্রথাগত কূটনীতি নয়, বরং দুই নেতার মধ্যকার চমৎকার ‘কেমিস্ট্রি’। তিনি উভয় নেতাকেই সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে অভিহিত করেন, যারা নিজ দেশের স্বার্থে প্রচলিত প্রথা ভেঙে এগোতে ভয় পান না।
২০১৭ সালের ঐতিহাসিক সফরের সেই সমুদ্রতটে হাঁটার মুহূর্তটি স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই প্রতীকী ছবিগুলো মূলত উদ্ভাবন ও নেতৃত্বের গভীর সংহতিকেই প্রতিফলিত করে।
সন্ত্রাসবাদ দমনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দুই দেশের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিকে অভিন্ন করে তুলেছে। হাসান-নাহুম উল্লেখ করেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দুই দেশের মানসিকতা এবং সহনশীলতা একই সুতোয় গাঁথা। অর্থনৈতিক ফ্রন্টে তিনি একটি ‘মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রবল আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, এমন একটি চুক্তি দুই দেশের অর্থনীতির জন্য ‘গেম-চেঞ্জার’ বা মোড় পরিবর্তনকারী হিসেবে প্রমাণিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হলো ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে তাঁর ভাষণ। হাসান-নাহুম জানান, ইসরায়েই এই সম্মানটি শুধু তাদের অতি ঘনিষ্ঠ এবং কৌশলগত মিত্রদের জন্যই তুলে রাখে। খুব কম সংখ্যক বিশ্বনেতাই নেসেটে ভাষণ দেয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা ইসরাইলের চোখে মোদীর গুরুত্ব এবং তাঁর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের প্রমাণ দেয়।
ব্যক্তিগতভাবে ফ্লুর হাসান-নাহুম ভারতের সাথে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর স্বামীর শিকড় ভারতের কলকাতায় হওয়ায় এই সফরের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত আবেগও জড়িয়ে আছে। সব মিলিয়ে, মোদির এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নয়, বরং এক নতুন শক্তিশালী আঞ্চলিক অক্ষ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারত ইসরাইল মাখামাখিতে বিচলিত পাকিস্তান
মিথ্যার মায়াজাল তৈরি করছে দুই যুদ্ধবাজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল: ইরান