মঙ্গলবার রাতে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে দেওয়া প্রায় দুই ঘণ্টার দীর্ঘ ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তর্জন-গর্জন ছাপিয়ে বড় হয়ে উঠেছে ইরান ইস্যু। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানকে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র স্পর্শ করতে দেবেন না। তবে এই সামরিক তৎপরতার কোনো জোরালো ব্যাখ্যা না থাকায় নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
ভাষণের প্রায় ৯০ মিনিটের মাথায় ট্রাম্প ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের বিশ্বসেরা মদদদাতা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগগুলো ছিল রীতিমতো বিস্ফোরক।
নিউক্লিয়ার আতঙ্ক: ইরান পুনরায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছে এবং ‘সিনিস্টার’ বা অশুভ লক্ষ্য পূরণে মরিয়া।
ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি: তেহরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে যা খুব শীঘ্রই উত্তর আমেরিকায় আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
রক্তক্ষয়ী ইতিহাস: মার্কিন সেনাদের ওপর অতীতে হওয়া রোডসাইড বোমা হামলার জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করেন।
বিক্ষোভ দমন: ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইরান প্রায় ৩২ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। যদিও এই সংখ্যাটি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি।
ট্রাম্পের এই ভাষণ শেষ হতে না হতেই ফুঁসে উঠেছে ইরান। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের প্রতিটি দাবিকে ‘বড় মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা, সবই ওয়াশিংটনের সাজানো গল্প।
ট্রাম্প যখন মধ্যপ্রাচ্যে দশকের সেরা সামরিক শক্তি জমা করছেন, তখন ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গোপনে সামরিক অপারেশন চালালে তার ফল হয় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, অর্থদণ্ড আর ট্র্যাজেডি। ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকানরাও চিন্তিত, কারণ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি মেনে ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন। এখন নতুন যুদ্ধের দামামা বাজানোয় ভোটাররা বেঁকে বসতে পারেন।
রয়টার্স/ইপসোস-এর সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, ৬৯ শতাংশ আমেরিকান সরাসরি হুমকি ছাড়া অন্য কোনো দেশের ওপর সামরিক হামলার বিরোধী। সামনেই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন, আর এমন সময় একটি বড় যুদ্ধ ট্রাম্পের গদির জন্য ‘তলোয়ার’ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন তিনি শান্তি চান, কিন্তু সেই শান্তির পেছনে যুদ্ধের অস্ত্রও শানিয়ে রেখেছেন। অন্যদিকে তেহরান বলছে, আলোচনার টেবিল নয় বরং ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে যুদ্ধ বাধানোর ছক কষছে হোয়াইট হাউস। মধ্যপ্রাচ্যের এই দাবার চালে পরবর্তী পদক্ষেপটি কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে এখন সারা বিশ্ব উদ্বিগ্ন।
বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয়ে ঊর্ধ্বগতি, শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া
হামলা হলে চড়া মাশুল! যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে কড়া বার্তা ইরানের