আকাশপথের লড়াইয়ে এক ঐতিহাসিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ইরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’এয়ার ডিফেন্স বেস দাবি করেছে, তারা কুয়েত সীমান্তের কাছে আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। গত ২৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো দেশের সামরিক অভিযানে মার্কিন মানবচালিত যুদ্ধবিমান ধ্বংস হওয়ার ঘটনা ঘটল।
ইরানি সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আক্রমণকারী মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ইরানি ভূখণ্ডে হামলার উদ্দেশ্যে আসার সময় আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তু হয় এবং সেটিকে সফলভাবে নিচে নামিয়ে আনা হয়। বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ প্রতিবেশী দেশ কুয়েতের মাটিতে গিয়ে পড়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই নাটকীয় পতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
সামরিক ইতিহাসে এই ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল। সর্বশেষ ২৭ বছর আগে (১৯৯৯ সালে) কসোভো যুদ্ধের সময় যুগোস্লাভিয়ার বাহিনী আমেরিকার একটি এফ-১১৭ স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছিল। এরপর থেকে বিমানের প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নতি হওয়ায় গত প্রায় তিন দশকে আমেরিকার কোনো যুদ্ধবিমান আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করার রেকর্ড ছিল না। ফলে ইরানের এই সাফল্য আধুনিক বিমান যুদ্ধ ও আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরান এই হামলাকে তাদের ওপর গত তিন দিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি আগ্রাসনের পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে বর্ণনা করেছে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এই তিন দিনের হামলায় ইরানে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ভয়াবহ একটি ঘটনা ছিল হরমুজগান প্রদেশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা, যেখানে ১৪৫টিরও বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সেনাবাহিনী বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে। তাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, ইসরাইল অধিকৃত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা।
কুয়েত সীমান্তের এই ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে সামরিক পর্যবেক্ষকদের অবাক করে দিয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন মার্কিন ফাইটার জেট ভূপাতিত হওয়ার এই ঘটনা উচ্চ-প্রযুক্তির যুদ্ধক্ষেত্রে আমেরিকার আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি, তাসনিম নিউজ, ফারস নিউজ এজেন্সি
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে ইরানের মিসাইল হামলা
দোহা থেকে কুয়েতজুড়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা