ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের দশম দিনে এসে ওয়াশিংটনের ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ নিয়ে কঠোর বিদ্রূপ করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবিকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে শুধু ইরান নয়, গোটা বিশ্বের জ্বালানি ব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে যাবে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বার্তায় কালিবাফ ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন তেলের দাম খুব একটা বাড়বে না; এখন যখন দাম আকাশচুম্বী, তখন তিনি বলছেন খুব শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে! কী চমৎকার কৌতুক!
কালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি যুদ্ধ এই গতিতে চলতে থাকে, তবে এক পর্যায়ে তেল উৎপাদন করার মতো অবকাঠামো যেমন থাকবে না, তেমনি তা বিক্রির কোনো পথও খোলা থাকবে না।

ইরানের এই শীর্ষ কর্মকর্তা সরাসরি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে তা শুধু ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘মস্তিষ্কপ্রসূত বিভ্রম’ বা ‘ডিলুশন’। তিনি দাবি করেন, নেতানিয়াহুর এই অবাস্তব লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থই নয়, বরং এই অঞ্চল এবং পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষের স্বার্থ আগুনের লেলিহান শিখায় ভস্মীভূত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়তুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি অভিযান এক নারকীয় রূপ নিয়েছে। ইরানের বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোতে নির্বিচারে বিমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে ইরানও দমে যায়নি। কালিবাফের এই বার্তার সমান্তরালে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীও তাদের পাল্টা আঘাত চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলের অধিকৃত ভূখণ্ড এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে তেহরান।

কালিবাফের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল যখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালী বা মধ্যপ্রাচ্যের তেল শোধনাগারগুলো যদি দীর্ঘ মেয়াদে অচল হয়ে পড়ে, তবে আধুনিক বিশ্ব এক নজিরবিহীন জ্বালানি দুর্ভিক্ষের মুখে পড়বে। আর এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ট্রাম্পের ‘অদূরদর্শী’ নীতি এবং নেতানিয়াহুর ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেই’ দায়ী করছে তেহরান।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ
